ব্লগ সংরক্ষাণাগার

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

পবিত্র হাদীসের আলো: পেরেশানি দূর ও ঋণমুক্তির দোয়া


লেখক: মওলানা মুহাম্মদ রূবাইয়াত বিন মূসা 

 #পবিত্র_হাদীসের_আলো

হযরত আবূ উমামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একদিন রাসূলে পাক ﷺ মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন আমি (আবূ উমামা) নামাযের সময় ছাড়া বসে আছি।

তিনি বললেন, “হে আবূ উমামা! নামাযের সময় ছাড়া কেন বসে আছো?”

আমি বললাম, “ওগো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), দুশ্চিন্তা ও ঋণ আমাকে গ্রাস করেছে।”

তিনি বললেন, “আমি কি তোমাকে এমন কিছু শব্দ শিখিয়ে দেবো না—যদি তুমি তা পড়ো, তাহলে আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং তোমার ঋণ পরিশোধ করে দেবেন?”

আমি বললাম, “অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)!”

তখন তিনি বললেন, “সকাল ও সন্ধ্যায় এই দোয়া পড়বে—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ،
وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ،
وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ،
وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ.

”হযরত আবু উমামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, “আমি তা নিয়মিত পড়তে লাগলাম, ফলে আল্লাহ আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দিলেন এবং আমার ঋণ আদায় করে দিলেন।” [আবূ দাউদ : আস্ সুনান, হাদীস নং ১৫৫৫]

উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আ‘উযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযন,
ওয়া আ‘উযু বিকা মিনাল ‘আজযি ওয়াল কাসাল,
ওয়া আ‘উযু বিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখল,
ওয়া আ‘উযু বিকা মিন গালাবাতিদ দাইনি ওয়া কাহরির রিজাল।

বাংলা অনুবাদ

হে আল্লাহ!
আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই—
দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের অত্যাচার/চাপ থেকে।

শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

ফিরে দেখা আরব জাতিয়তাবাদের আত্মঘাত

 

-এডমিন।

আমাদের প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায়ী হজ্জ্বের ভাষণে বলেছিলেন - لا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ عَلَى أَعْجَمِيٍّ، وَلَا لِعَجَمِيٍّ عَلَى عَرَبِيٍّ، وَلَا لِأَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ وَلَا أَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ إِلَّا بِالتَّقْوَى - অনুবাদ: "আরবের ওপর অনারবের, অনারবের ওপর আরবের, সাদার ওপর কালোর বা কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) ভিত্তিতে (হবে)।" এটা তাঁর ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জ্বের খুতবার মূল অংশবিশেষ, যা বর্ণবাদ ও জাতিভেদ প্রথাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দেয়।

কিন্তু হায়! আরবীয় জাতিগোষ্ঠী মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী সম্পর্কে পুরোপুরি বিস্মৃত হয়ে ১৭৫০ খৃষ্টাব্দ সালে নজদ অঞ্চলের মুহাম্মদ ইবনে আবদিল ওয়াহহাবের মতো এক গণ্ডমূর্খের কথায় কর্ণপাত করে। অথচ এই ব্যক্তি হামফের নামের এক বৃটিশ গুপ্তচরের ধোঁকায় পড়ে ওহাবীবাদ প্রচার আরম্ভ করেছিলো (ওই একই বছর)। নজদ অঞ্চলের সৌদ গোত্র ওহাবী মতবাদকে বৃটিশের সহায়তায় পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং শেষমেশ আরবীয় জাতিয়তাবাদের ছদ্মাবরণে বৃটিশ গুপ্তচর কর্নেল লরেন্সের ষড়যন্ত্রে ও বৃটিশ বাহিনীর সহযোগিতায় উসমানীয় তুর্কী শাসকদের আরব অঞ্চল থেকে উৎখাত করে (১৯৩২ সাল)। এ এক করুণ ইতিহাস। কেননা তুর্কী শাসন ছিলো খাঁটি সুন্নী-সূফী মতাদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। আরবীয় জনগণের আত্মঘাতী এ ভ্রমের কারণে সুন্নী শাসনের অবসান হয় এবং এর পরপরই বৃটিশ বাহিনী গোটা আরব অঞ্চলটিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে পরিণত করে। বস্তুতঃ তারা এভাবেই মধ্যযুগে হেরে যাওয়া ক্রূসেইডগুলোর বদলা নেয়, আর আরবীয় জনগোষ্ঠী নিজেদের করুণ পরিণতি চেয়ে চেয়ে দেখে!

আজ ১০০ বছর পরেও ওই ভুল সিদ্ধান্তের কুফল আরবীয়দেরকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। বর্তমান ইরান যুদ্ধে আরবীয়দের আত্মোপলুব্ধি হলে হয়তো তারা এ রাহুগ্রাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, ইনশা’আল্লাহ। কাঙ্ক্ষিত ইমাম মাহদী (আলাইহিস্ সালাম)-এর শুভাগমন হলে অবশ্যঅবশ্য দিন আবার ফিরবে, মওলার মর্জিতে।
*সমাপ্ত*

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

ইসলামী স্বর্ণযুগে আরব ও বর্তমান আরব


-এডমিন।

এ বিষয়ে সংক্ষেপে বলবো, প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সোনালী যুগে এবং তৎপরবর্তী পুণ্যবান পূর্বসূরী (সালাফ) ও উত্তরসূরী (খালাফ)-দের হীরণ্ময় অতীতকালে ইসলামের পরম বিকাশ হয়েছিলো। মুসলিম শাসকবৃন্দও সামাজিক ন্যায়বিচার/ইনসাফ ও নিয়ম-নীতি অনুসারে রাজ্য শাসন করেছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামতের আলামত/লক্ষণ বর্ণনা প্রসঙ্গে যা যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তার সবই বর্তমানে প্রকাশিত হয়েছে। গুগল এ.আই.-কে আমি এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। উত্তর এখানে শেয়ার করা হলো:

আপনার উল্লেখিত বিষয়টি মূলত কিয়ামতের একটি উল্লেখযোগ্য আলামত বা চিহ্ন হিসেবে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত ‘হাদীসে জিবরাঈল’-এ এই বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে [১.৩.৫, ১.৪.৪]।

রাসূলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের নিদর্শন সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন:

“...যখন দেখবে যে, নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, দরিদ্র মেষপালকগণ সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে।” [১.২.২, ১.৩.১, ১.৪.২]

এই হাদীসটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

*হাদীসের উৎস ও তথ্য*

প্রধান উৎস: এই বর্ণনাটি সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ১), সহীহ বুখারী, সুনান ইবনে মাজাহ এবং মুসনাদে আহমাদ-সহ বিভিন্ন বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে [১.২.২, ১.৩.১, ১.৩.১০, ১.৪.৪]।

বর্ণনাকারী: প্রধানত হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এবং হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই হাদীসটি বর্ণিত [১.৩.২, ১.৩.৭, ১.৪.৯]।
*হাদীসটির তাৎপর্য*

১. আকস্মিক সচ্ছলতা: এখানে ‘নগ্নপদ ও বস্ত্রহীন রাখাল’ বলতে আরবের মরুচারী বেদুইনদের বোঝানো হয়েছে, যাদের এক সময় জীবনধারণের সামান্য সরঞ্জামও ছিল না [১.৩.৫, ১.৩.১০, ১.৩.১৩]।

২. উচ্চ ভবন নির্মাণের প্রতিযোগিতা: হাদীসে বলা হয়েছে যে, এই দরিদ্র রাখালরা হঠাৎ প্রচুর সম্পদের মালিক হবে এবং প্রয়োজনের তুলনায় কেবল নিজেদের বড়ত্ব প্রকাশের জন্য সুউচ্চ ভবন তৈরির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে [১.১.১০, ১.৩.৫, ১.৩.৬]।

৩. নেতৃত্ব ও ক্ষমতা: ইমাম কুরতুবী (রহ.)-এর মতো ব্যাখ্যাকারদের মতে, এর অর্থ হলো—সমাজের নিম্নস্তরের বা অযোগ্য লোকেরা রাষ্ট্রক্ষমতা ও নেতৃত্বের আসনে বসবে এবং সম্পদের অপব্যবহার করবে [১.৩.১০]।

বর্তমান যুগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (বিশেষ করে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা) এবং কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মরুচারী আরবদের মাধ্যমে গগনচুম্বী অট্টালিকা নির্মাণের যে প্রতিযোগিতা চলছে, অনেক গবেষক ও আলেম একেই উক্ত হাদীসের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে মনে করেন [১.১.১০, ১.২.২, ১.৩.৬, ১.৩.৯] {এ. আই.-এর উদ্ধৃতি সমাপ্ত}

আমি গুগল এ.আই.-লিঙ্কটি নিচে শেয়ার করলাম। সাথে হাদীসের আরবী উদ্ধৃতির লিঙ্কটিও শেয়ার করলাম। শেষ কথা হলো, বর্তমান আরবীয় রাজ্যগুলোর কর্ণধারবর্গ প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বংশধর বা উত্তরসূরী নয়। এরা জংলী ও দ্বীনবিরোধী গোষ্ঠী! এরা কোনোক্রমেই সুন্নী-সূফী নয়!
*সমাপ্ত*

এ. আই. লিঙ্ক: https://www.google.com/search?q=%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8+-+%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7+%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F+%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%B0%E0%A6%BE+%E0%A6%A7%E0%A6%A8%E0%A7%80+%E0%A6%93+%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82+%E0%A6%89%E0%A6%81%E0%A6%9A%E0%A7%81+%E0%A6%AD%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8+%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87+%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC+%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A5%A4&rlz=1C1KFKH_enBD1139BD1148&gs_lcrp=EgZjaHJvbWUyBggAEEUYOdIBCzEwNjk5MWowajE1qAIIsAIB8QWpg-Obv1ULy_EFqYPjm79VC8s&sourceid=chrome&ie=UTF-8&udm=50&fbs=ADc_l-YvsOTjOKSSZYD2NDRzvbZAb2y2FfCNBueOPN85cqbs4oysUjF5i_x3ov_zmvyKykq1ev748VAqfhm1InUObw9tw0ETz0XlBU2q8wxdUWNeTPgvW1G_B8jUFzO0nYn0PMtNI4Q7kdqLPYnfhP63V3zU9j6tbqB_vHF34os_kgsExC9_rAmdLyfQiAHcXjogoWuAfrRhfVMDaC8miba_Fzbsz5gJUfYXzRJ7Y9rykX8sKAKxjHuKTS2kfoXt3kzQpx0ZMZMQ&ved=2ahUKEwidvoCCjs2TAxXvUGwGHSAAHisQ0NsOegQIAxAB&aep=10&ntc=1&mstk=AUtExfAzR0gNKd3I-aOe1pqi-zYaC_z5FOGAlKP_MyBA7STa7_xfF3oS_W2dKg39FzOupZN4wYLTx1BNCPCi5zryJ4qgx4mHRYUGND73VIeCy2l1DoZifS9LArNi_NIZY3sKHiYdzKBccv7IKXUpq01s6QbrfPepT0au704&csuir=1&mtid=BevPaeORM6CJ4-EP2uqlqAo&fbclid=IwY2xjawQ8ylVleHRuA2FlbQIxMABicmlkETFxdDVia2ZhZ2VUWktIWDJUc3J0YwZhcHBfaWQQMjIyMDM5MTc4ODIwMDg5MgABHqUvJiUzH1idGbyBCSTCxZ7c527uI3gW2NwNqkwxAsTQ7Vjhc57YBj_9SZUN_aem_FF6R2s3V7yvyrGLS_dpXEg

বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শবে বরা’তের হালুয়া-রুটিতে এতো এলার্জি কেন?

-এডমিন

ছোটকাল থেকে দেখে এসেছি যে আমাদের মুসলমান সমাজের পূর্ববর্তী দুই প্রজন্ম শবে বরা’তে হালুয়া-রুটি বানাতেন এবং খেতেন। ওই সময় কাউকেই এর বিরুদ্ধে কোনো উচ্চবাচ্য করতে দেখি নি। আমি ’৬০ ও ’৭০’এর দশকের কথা বলছি। কিন্তু হাল-ফ্যাশনের কতিপয় মৌ-লোভী ও তাদের অনুসারী দল এটাকে ‘কুসংস্কার’ ও ’বিদ’আত’ (ধর্মে নতুন প্রচলন) বলে অপপ্রচার করছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। আমি এখানে সংক্ষেপে তাদের অপযুক্তির জবাব দেবো, ইনশা’আল্লাহ।

প্রথমেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইসলামী আলেম মরহূম ড: ইঊসুফ ক্বারাদাউয়ী সাহেবের ওয়েবসাইট থেকে এর শরঈ বিধান জেনে নেয়া যাক। তিনি বলেন:

كان أول مبدأ قرره الإسلام: أن الأصل فيما خلق الله من أشياء ومنافع، هو الحل والإباحة، ولا حرام إلا ما ورد نص صحيح صريح من الشارع بتحريمه، فإذا لم يكن النص صحيحا -كبعض الأحاديث الضعيفة- أو لم يكن صريحا في الدلالة على الحرمة، بقي الأمر على أصل الإباحة.

অর্থ: দ্বীন-ইসলামের প্রাথমিক মৌলনীতি হলো, আল্লাহতায়ালা তাবৎ যা কিছু (তথা বিষয়/বস্তু) সৃষ্টি করেছেন (দুনিয়ায়), তা (মানবের জন্যে) উপকারী; তাই তা হালাল (অনুমতিপ্রাপ্ত) ও মোবাহ (বৈধ); এবং শরীয়তের বিধানদাতা (আল্লাহর কুর’আন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ)-এর কাছ থেকে কোনো সুস্পষ্ট নস্/দলিল দ্বারা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ হওয়া ছাড়া কিছুই নিষিদ্ধ নয়। যদি ’নস্’টি সুস্পষ্ট না হয় - যথা কিছু দুর্বল হাদীস, অথবা নিষিদ্ধকরণের ইঙ্গিতের ক্ষেত্রে অস্পষ্ট দলিল - তাহলে বিষয়টি মূলতঃ জায়েয থাকে। [শাইখ ক্বারাদাউয়ী সাহেবের বিস্তারিত বক্তব্য-সম্বলিত ওয়েবসাইট লিঙ্ক মন্তব্য সেকশানে প্রদত্ত]

এখন প্রশ্ন হলো, হালুয়া-রুটি খাওয়া কি হারাম? ভ্রান্ত মৌ-লোভীচক্র এখানে অপকৌশল প্রয়োগ করে থাকে। তারা বলে, “না, তা খাওয়া জায়েয, তবে শবে বরা’তের রাতের সাথে সম্বন্ধ স্থাপন করে ইবাদত-বন্দেগীর সওয়াব/পুণ্য লাভের উদ্দেশ্যে তা খাওয়া ‘কুসংস্কার’ ও ‘বিদ’আত।’ আসলে এই সমস্যাটি তাদেরই বক্র অন্তরের, মুসলমান সমাজের কোনো দোষ এতে নিহিত নেই। কেননা কেউই এটাকে শবে বরা’তে পালনীয় ইবাদতের অংশ বিবেচনা করেন না। এটা তাঁরা করেন একমাত্র মানুষ ও প্রতিবেশীদের খাওয়ানোর উদ্দেশ্যেই। এই খাওয়ানোর নিয়্যত তথা সদুদ্দেশ্য আলাদা সওয়াব বা পুণ্যের ভাগীদার করে তাঁদের। ভ্রান্ত মৌ-লোভীদের মনের বক্রতা তাদের এ আপত্তি উত্থাপনে প্রমাণিত হয়, কেননা তারা মূল শবে বরা’ত পালনকে বাধা দেয়ার দুরভিসন্ধি নিয়েই এ আপত্তি তুলেছে। অথচ মানুষকে খাওয়ানোর পক্ষে অজস্র শরঈ দলিল আমাদের সামনে বিদ্যমান।
একইভাবে, শবে বরা’ত উপলক্ষে সন্ধ্যায় গোসল করা নিয়েও আপত্তির শেষ নেই। আবারো জবাব হলো, গোসল করা কি হারাম? প্রকৃতপক্ষে ভ্রান্তদের প্রথম টার্গেট ছিলো শবে বরা’তকে নিষিদ্ধ প্রমাণ করা। এ অসদুদ্দেশ্যে তারা শবে বরা’তের সমর্থনে বর্ণিত হাদীসগুলোকে সহীহ বা বিশুদ্ধ নয় বলে অপপ্রচারে মাঠে নেমেছিলো। কিন্তু এসব হাদীসের মধ্যে এমন বেশ কিছু আছে যেগুলো সহীহ, আর সেগুলো বাকি যয়ীফ/দুর্বল হাদীসগুলোকে সুদৃঢ় করেছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার এজেন্সী গ্রহণকারী এই ভ্রান্তপন্থী চক্রটি হক্কপন্থী উলামার জোরালো প্রতিরোধের মুখে তাদের মূল কাজে ব্যর্থ হয়ে এখন বিষয়টির আনুষঙ্গিক দিকগুলোর দিকে ঢিল ছুঁড়ছে! তাদের ষড়যন্ত্র দিবালোকের মতো পরিষ্কার! মুসলমান সমাজ তা যথাযথভাবে দেখতে না পেলে বদ-নসীবী তাঁদেরই ললাটে আঁকা হবে, আল্লাহ মাফ করুন (আমীন)! আমাদের কাজ ছিলো সতর্ক করা, এখানে তাই করলাম। আল্লাহ সবাইকে হেদায়াত দিন, আমীন।

জরুরি জ্ঞাতব্য

ইসলামের উসূলের কায়দা হলো, হারাম প্রমাণের জন্যই কুর'আন-হাদীসের দলিল জরুরি। কিন্তু যাঁরা কোনো বিষয় বা বস্তুকে জায়েয বলেন, তাঁদের দলিলের প্রয়োজন নেই। অতএব, হালুয়া-রুটি খাওয়া হারাম সেটার দলিল দেখাতে হবে! মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতি মনের সন্দেহ অথবা কারো অন্তরের অবস্থা কল্পনা করে বা তার সম্ভাবনার উপর শরীয়তের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না! উসূলের এ কায়দাটি কুরআন মজীদের সূরাহ বিভিন্ন আয়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত যা শাইখ ক্বারাদাউয়ীর উল্লেখিত ওয়েবসাইটে স্পষ্ট আরবীতে উদ্ধৃত হয়েছে - هُوَ ٱلَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَّا فِي ٱلأَرْضِ جَمِيعاً - অর্থ: তিনিই, যিনি তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন যা কিছু পৃথিবীতে রয়েছে [২/২৯]। অন্যত্র ঘোষিত হয়েছে - وَسَخَّرَ لَكُمْ مَّا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلأَرْضِ جَمِيعاً مِّنْهُ - অর্থ: এবং তোমাদের জন্যে কাজে লাগিয়েছেন যা কিছু আসমানসমূহে রয়েছে এবং যা কিছু জমিনে স্বীয় নির্দেশে [৪৫/১৩]। আরো ঘোষিত হয়েছে - أَلَمْ تَرَوْاْ أَنَّ ٱللَّهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَّا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً - অর্থ: তোমরা কি দেখো নি যে, আল্লাহ তোমাদের জন্যে কাজে নিয়োজিত করেছেন যা কিছু আসমানসমূহে ও জমিনে রয়েছে এবং তোমাদেরকে পূর্ণমাত্রায় দিয়েছেন আপন অনুগ্রহসমূহ, প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে [৩১/২০; নূরুল ইরফান]।
সমাপ্ত

শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫

হাদীস-বিষয়ক আপত্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য

 -এডমিন

প্রশ্ন

”আমার আকীদার সাথে মিল থাকলে হাদীস মানি, আর মিল না থাকলে মানি না। কেননা হাদীসের সত্যতা প্রমাণ করা ৭ সমুদ্র ১৩ নদীর পানি সেঁচে মুক্তা আহরণের চেয়েও কঠিন। তাই আমার হাতে সুযোগ আছে। মানিনা অর্থ অস্বীকার করা নয়, সে হাদীসগুলো আমার মতে জাল ও ক্ষেত্রে বিশেষে জইফ। আর হ্যাঁ, হাদীস অবশ্যই কুর’আনের সমমর্যাদার না“ - এ কথাগুলো কি ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক? নাকি ভুল?

উত্তর

আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে উপরের কথাগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে সিদ্ধ নয়। কেননা স্ববিরোধী দাবি উত্থাপন করা হয়েছে এ মর্মে যে, ’হাদীস মানি না, (আবার) অস্বীকারও করি না।’ হাদীস হিসেবে স্বীকার করলে অবশ্যই তা মানতে হবে, যেহেতু তা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী। আমি নিজস্ব মত এখানে দেবো না, বরং ইসলামের হাদীসশাস্ত্র বিশারদ ইমামবৃন্দের (রহ.) ভাষ্য এখানে উপস্থাপন করবো। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিখ্যাত লেবাননী বংশোদ্ভূত মার্কিন শাইখ মুহাম্মদ হিশাম কাব্বানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর ‘ইন্টারনেটে মহা-বিতর্ক’ শিরোনামের গবেষণাপত্রে লিখেছেন:

‘এলম আল-হাদীস’ শাস্ত্রে আমরা হাদীসের বিভিন্ন শ্রেণীবিন্যাস পাই। এগুলোর একটি হলো ‘সহীহ’, যার অর্থ করা হয়েছে, ‘ভুলের বিপরীত।’ এই ‘সহীহ’ শব্দটির ব্যাখ্যা করতে একটি গোটা গ্রন্থ লেখার প্রয়োজন হবে। ‘হাদীসে হাসান’ শব্দটির ব্যাখ্যা করতেও আরেকটি পুরো বই লেখতে হবে।

আহাদীসের শ্রেণীবিন্যাস

এই শ্রেণীবিন্যাসের পরবর্তী ধাপ/পর্যায় হলো ’হাদীস যয়ীফ’। এরপর ক্রমানুসারে ‘হাদীস মারফু’, ’হাদীস মুসনাদ’, ‘হাদীস মুত্তাসিল’, ‘হাদীস মওকুফ’, ’হাদীস মাকতু’, ‘হাদীস মুনকাতী’, ’হাদীস মু’আদল’, ’হাদীস মুরসাল’, ’হাদীস মু’আলাক’, ‘হাদীস মুসালসাল’, ‘হাদীস গরীব’, ‘হাদীস আযীয’, ‘হাদীস মাশহুর’, ‘হাদীস মুতাওয়াতের’, ‘হাদীস মু’আনা’আন’, ‘হাদীস মুবহাম’, ‘হাদীস মুদাল্লাস্’, ‘হাদীস আশ্ শায়ায’, ‘হাদীস মাহফূয’, ‘হাদীস মুনকার’, ‘হাদীস মা’রুফ’, ‘হাদীস আলিই ওয়ান-নাযিল’, হাদীস মুদার্রাজ’, ’হাদীস মুদ্দাবাজ’, ‘হাদীস মুত্তাফফাক’, ‘হাদীস মুফতারাক’, ‘হাদীস মু’তালিফ’, ‘হাদীস মুখতালিফ’, ‘হাদীস মাকলুব’, ‘হাদীস মুদতারিব’, ‘হাদীস মু’আল্লাল’, ‘হাদীস মাতরুক’, এবং সবশেষে ‘হাদীস মাওযু’।

অতএব, আমরা পেলাম হাদীসের ৩৫টি সুনির্দিষ্ট শ্রেণীবিন্যাস, যা উলামাবৃন্দ হাদীস অধ্যয়নের সময় ব্যবহার করেন এবং যা দ্বারা তাঁরা হাদীসের শ্রেণীবিন্যাস করেন। এভাবেই ইসলামী পণ্ডিতমণ্ডলী জানতে পারেন কোন্ হাদীস গ্রহণযোগ্য, আর কোনটি গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে একটি যৌক্তিক প্রশ্নের উদ্ভব হতে পারে আর তা হলো, “কুরআন বা সুন্নাহ’তে আক্ষরিকভাবে কোথায় এই শব্দগুলো পাওয়া যায়?” আর এরই ধারাবাহিকতায় আরও একটি যৌক্তিক প্রশ্ন উঠতে পারে যে এই জ্ঞানের বা বিদ্যার শাখা সৃষ্টির এবং এই শ্রেণীকরণ ও শব্দগুলো প্রবর্তনের অনুমতি কখন এলো? কেননা, এ তো মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেননি।

বস্তুতঃ এসব শ্রেণীবিন্যাস অস্তিত্ব পেয়েছে ইমাম বুখারী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) ও তাঁর মতো মুহাদ্দেসীনবৃন্দের আগমনের পর, যাঁরা ‘এলমুল হাদীস’-এর উসূল তথা মূলনীতি প্রণয়ন ও সেগুলোর শ্রেণীকরণ করেন; আর এগুলোর কোনোটি-ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জমানায় ছিল না। আরেক কথায়, হাদীসের এই শ্রেণীবিন্যাস কুরআন মজীদ বা সুন্নাহ’তে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়নি; কিংবা সাহাবা-এ-কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-দের যুগেও এগুলোর অস্তিত্ব ছিল না; বরং এগুলোকে পরবর্তীকালে উলামাবৃন্দই সংজ্ঞায়িত ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। [শাইখ হিশাম কাব্বানী রহমতুল্লাহি আলাইহির লেখাটির লিঙ্ক মন্তব্য সেকশনে প্রদত্ত]

অতএব, বোঝা গেলো যে হাদীসশাস্ত্র আমাদের মুহাদ্দিস ইমামবৃন্দই (রহ.) নিয়মবদ্ধ করেছেন এবং আমাদের মতো বকলম-বাহাদুরদের কোনো সুযোগ রাখেন নি এ বিষয়ে কথা বলার। আমাদের একমাত্র করণীয় হলো তাঁদের আঁকা ছকের অনুসরণ করা, আর আলবানী, ইবনে বা’য গংয়ের মতো গণ্ডমূর্খদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পণ্ডিতি জাহির না করা! কেননা নির্ভুল হাদীসশাস্ত্রের খাতিরে মুহাদ্দিস ইমামবৃন্দ (রহ.) ৭ সমুদ্র ১৩ নদীর পানি সেঁচে সত্যিকার মুক্তাই উদ্ধার করেছেন! তাঁরা বর্তমান যুগের পণ্ডিতি জাহিরকারী লোকদের কোনো কথা বলার অবকাশই রাখেন নি! এ শাস্ত্রে ‘আমার মত/অভিমত’ বলতে কিছু নেই। তাই কোনো হাদীস সম্পর্কে মনে সন্দেহ জাগলে অবশ্যঅবশ্য মুহাদ্দিস ইমামবৃন্দের (রহ.) এতদসংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি জানতে হবে। জানতে হবে হাদীসটি আসলে কোন্ শ্রেণিভুক্ত। এর জন্যে ব্যাপক অধ্যয়ন প্রয়োজন।
উপরের প্রশ্নটিতে উল্লেখিত শেষ আপত্তিটি সম্পর্কে কিছু বলে শেষ করতে চাই। কুর’আনের সাথে হাদীসের এ রকম তুলনা দেয়াটা ইসলামের শত্রুদের শেখানো বুলি। এতে আমাদের ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের ভিত নাড়িয়ে দেবার ষড়যন্ত্র নিহিত। এতে লুকিয়ে আছে প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনের এক গভীর দুরভিসন্ধি। অথচ আল্লাহতায়ালা ফরমান - وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلْهَوَىٰ، إِنْ هُوَ إِلاَّ وَحْيٌ يُوحَىٰ - এবং নবী পাক কোনো কথা নিজ প্রবৃত্তি থেকে বলেন না; তা তো ওহী-ই, যা তাঁর প্রতি (নাজিল) করা হয় [কুর’আন, ৫৩/৩-৪; নূরুল ইরফান]। এ লেখাটি দীর্ঘ হয়ে যাবে বলে ওহী মাতলূ (وَحِى مَتْلْو) এবং গায়রে মাতলূ (وَحِى غَيْر مَتْلْو) শব্দগুলোর এ.আই. রেফারেন্স লিঙ্ক আমি মন্তব্য সেকশনে দিলাম। মোদ্দা কথা হলো, রাসূলুল্লাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সমস্ত বাণী-ই ওহী, কেননা তিনি নিজ হতে কোনো কথা বলেন না (উক্ত আয়াতে করীমা অনুসারে)। সুতরাং হাদীসকে খাটো করে কথা বলার কোনো রকম সুযোগই নেই!

*সমাপ্ত*


ওহী সম্পর্কে এ.আই.-এর লিঙ্ক: https://www.google.com/search?q=wahi+matlu+and+wahi+ghair+matlu&sca_esv=72c81ee87f92bcb2&rlz=1C1KFKH_enBD1139BD1148&sxsrf=AE3TifOJC5-b7YPDbTpXwt1vQ6dwFUJcXw%3A1759299209822&ei=icbcaITrMfaZseMP1pWE8A4&oq=wahi&gs_lp=Egxnd3Mtd2l6LXNlcnAaAhgDIgR3YWhpKgIIATIEECMYJzIMECMYgAQYExgnGIoFMgcQLhiABBgTMhMQLhiABBgTGKgDGJoDGIsDGJsDMgoQABiABBgTGIsDMgcQLhiABBgTMgcQLhiABBgTMgcQLhiABBgTMhMQLhiABBgTGKgDGJgDGJoDGIsDMgoQABiABBgTGIsDSJ4iUABYzAZwAHgAkAEAmAHaAaAB_gSqAQUwLjMuMbgBAcgBAPgBAZgCBKAC3QXCAgoQIxiABBgnGIoFwgIHEAAYgAQYE8ICDRAuGIAEGNEDGBMYxwGYAwCSBwUwLjMuMaAH1UmyBwUwLjMuMbgH3QXCBwUzLTIuMsgHUA&sclient=gws-wiz-serp&fbclid=IwY2xjawNOIB1leHRuA2FlbQIxMABicmlkETFWdGlrWG9wQnZuNlVIOEpoAR7lbDXsD0iaFCX6k3_VTMs09J_dcGTkfCmvnqL6efMI21ALWz0L8sgXRvRRuw_aem_TpSg67voBvQ8mJKXAbJ1FA

জরুরি জ্ঞাতব্য

ওহাবী/সালাফীচক্র নিম্নের হাদীসটিকে বিকৃত করে থাকে - “আমার রওযাকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ কোরো না” [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, ৭৫৪২, আন্তর্জাতিক - لَا تَتَّخِذُوا قَبْرِي عِيدًا]। আল-মাকদেসী (রহ.)-এর মতে হাদীসটি সহীহ। ওহাবী ভ্রান্তরা দাবি করে যে এর অর্থ, ঈদের মতো দিন ধার্য করে বাৎসরিক উরসের মেলা বসিও না। অথচ সুন্নী ইমামদের এ ব্যাপারে ভিন্নতর ব্যাখ্যা রয়েছে। ইমাম ইঊসুফ নাবহানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর বিখ্যাত ‘শওয়াহিদুল হক্ক’ পুস্তকের ৮০ পৃষ্ঠায় (৩য় সংস্করণ, কায়রো, ১৯৬৫) মুহাদ্দিস ইমামবৃন্দের উদ্ধৃতি দিয়ে এর ব্যাখ্যা করেছেন - “ঈদের মতো বছরে একদিন যিয়ারত করতে এসো না, বরং ঘনঘন যিয়ারত কোরো।” এসব ব্যাখ্যা না জেনে ঘাড়ত্যাড়া আঈনউদ্দীনের মতো হাদীস অস্বীকার করলে সুন্নীদের মুখ দুনিয়াতে থাকবে কি? নাকি আখেরাতে প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে দাঁড়াতে পারবে? বস্তুতঃ এভাবেই হাদীসের অপব্যাখ্যা করে থাকে পথভ্রষ্ট ওহাবী/সালাফী গোষ্ঠী। ইমাম নাবহানী (রহ.)-এর বইয়ের আরবী ইবারত - وقيل المراد لا تزوروه في العام مرة فقط بل أكثروا الزيارة له كما مر - شواهد الحق في الاستغاثة بسيد الخلق (ص) - الشيخ يوسف بن اسماعيل النبهاني - الصفحة ١٨٦

ইমাম ইঊসুফ নাবহানী (রহ.)-এর শওয়াহিদুল হক গ্রন্থের পিডিএফ লিঙ্ক: https://archive.org/details/ShawahidUlHaqByImamNabhani


বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ইমাম মাহদী (আ.) দাবিকারী ব্যক্তি ও কবর থেকে তুলে মরদেহ পোড়ানো সংক্রান্ত শরঈ বিধান


মওলানা মুহাম্মদ রুবাইয়াত বিন মূসা

প্রভাষক,

সাঁইদাঁইর গাউছিয়া তৈয়্যবিয়া দিলোয়ারা বেগম সুন্নিয়া ফাযিল মাদরাসা,

চট্টগ্রাম। 


(১) ইমাম মাহদী দাবী করা ব্যক্তির বিষয়ে বিধান

(২) কবর থেকে লাশ তুলে নিয়ে পুড়ে ফেলার বিধান

(১) নিজেকে ইমাম মাহদী দাবী করা-
যদি কেউ সত্যিই নিজেকে ইমাম মাহদী বলে দাবি করে, তবে এটি বিদআত ও গোমরাহি। কিন্তু শুধু দাবীর কারণে কাউকে কাফির বলা যায় না, যতক্ষণ না সে স্পষ্ট কুফরি বা শরীয়তের অস্বীকার করে।

ফিকহী নীতি (হানাফী)-
الإمام أبو حنيفة رحمه الله يقول: "لا نكفّر أحداً من أهل القبلة بذنب ما لم يستحله" (الفقه الأكبر، ص: 317)
- ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেন, “আমরা আহলে কিবলার (কালিমা পাঠকারীদের) কাউকে কোন গুনাহের কারণে কাফির বলি না, যতক্ষণ না সে সেটিকে হালাল মনে করে। [ফিকহুল আকবর]

(২) মৃত্যুর পর কবর থেকে তুলে লাশ পুড়িয়ে ফেলার বিধান-
লাশ পুড়িয়ে ফেলা ইসলাম বিরোধী, এমনকি কাফিরের লাশও পুড়িয়ে ফেলা জায়েয নয়। কুরআন মাজিদে আছে: ثُمَّ أَمَاتَهُ فَأَقْبَرَهُ ‎
- অতঃপর তিনি (আল্লাহ) তাকে মৃত্যু দেন, তারপর তাকে কবরস্থ করেন। [আল কুরআন : আল আবাসা, ৮০/২১]

কবর দেওয়া আল্লাহর নির্দেশ। তাই এর বিরোধিতা করা শরীয়ত বিরোধী।

হাদীস

عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ فَلَا تَحْبِسُوهُ، وَأَسْرِعُوا بِهِ إِلَى قَبْرِهِ» (رواه البخاري 1315، مسلم 944)
-রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের কারো মৃত্যু হলে তাকে (দাফনে) বিলম্ব করো না, দ্রুত তাকে তার কবরে পৌঁছে দাও। (বুখারী, মুসলিম)

হানাফী ফিকহ

ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি) গ্রন্থে বলা হয়েছে: ولا يجوز إحراق الميت، مسلماً كان أو كافراً، بل يدفن في الأرض كما أمر الله تعالى.” (الفتاوى الهندية) 1/162)
- মৃত ব্যক্তিকে পুড়িয়ে ফেলা জায়েয নয়, সে মুসলিম হোক বা কাফির; বরং তাকে আল্লাহ যেমন কবরের নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনিভাবে মাটির নিচে দাফন করা হবে।

*সমাপ্ত*


বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫

মীলাদুন্নবী (ﷺ) উদযাপনের পক্ষে ইসলামের সত্যপন্থী চার খলীফা (রা.)-এর বক্তব্য

 

[হুজুর তাজুশ শরীয়াহ আল্লামা আখতার রেজা আল-আজহারী রাহিমাহুল্লাহ কর্তৃক যাচাইকৃত]

প্রকাশক: মসজিদুল হক্ব-ডট-কম
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
নাহমাদুহু ওয়া নুসল্লি আলা রাসূলিহিল করীম
আম্মা বা’আদ।

ইমাম শিহাবউদ্দীন আহমদ ইবনে হাজর হায়তামী মক্কী শাফেঈ (বেসাল: ৯৭৪ হিজরী) - রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিশ্বনন্দিত - النِّعْمَةُ الْكُبْرىٰ عَلَى الْعَالَمِ فِيْ مَوْلِدِ سَيِّدِ وَلَدِ آدَم - “আদম সন্তানপ্রধান প্রিয়নবী (ﷺ)-এর ধরাধামে শুভাগমনের মাঝে আল্লাহতায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ” শীর্ষক গ্রন্থে ইসলামের সত্য-সঠিক পথপ্রদর্শক চার খলীফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাণীসম্বলিত বর্ণনা উদ্ধৃত করেন:

قَالَ اَبُوْ بَکْرٍ رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ: مَنْ اَنْفَقَ دِرْھَمًا عَلٰی قِرَاءَۃِ مَوْلِدِ النَّبِیِّ صَلَّی اللّٰہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ کَانَ رَفِیْقِیْ فِیْ الْجَنَّۃِ

অর্থ: খলীফা হযরতে আবূ বকর সিদ্দীক্ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: “যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী (ﷺ) পাঠ তথা যিকির (সূরা এনশারাহ, ৪ আয়াত) পালনে এক দিরহাম ব্যয় করেন, তিনি বেহেশতে আমার বন্ধু হবেন।” [নে’মাতুল কুবরা, পৃষ্ঠা-৭]

وَقَالَ عُمَرُ رَضِیَّ اللّٰہُ عَنْہُ: مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدَ النَّبِیِّ صَلَّی اللّٰہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ فَقَدْ اَحْیَا الْاِسْلَامَ

অর্থ: খলীফা হযরতে উমর ফারূক্ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: ”যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী (ﷺ)-কে সম্মান করেন, নিশ্চয় তিনি দ্বীন-ইসলামকে হায়াত দান করেন।” [প্রাগুক্ত, ৭ পৃষ্ঠা]

وَقَالَ عُثْمَانُ رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ: مَنْ اَنْفَقَ دِرْھَمًا عَلٰی قِرَاءَۃِ مَوْلِدِ النَّبِیِّ صَلَّی اللّٰہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ فَکَاَنَّمَا شَھِدَ غَزْوَۃَ بَدْرٍ وَّ حُنَیْنٍ

অর্থ: খলীফা হযরতে উসমান যিন্নূরাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: “যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী (ﷺ)-এর যিকিরে এক দিরহাম ব্যয় করেন, তিনি বদর ও হুনাইনের জ্বিহাদে শরীক হওয়ার মর্যাদা লাভ করেন। [প্রাগুক্ত, ৭-৮ পৃষ্ঠা]

وَقَالَ عَلِیٌّ رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ وَکَرَّمَ اللّٰہُ وَجْھَہٗ : مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدَ النَّبِیِّ صَلَّی اللّٰہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ وَکَانَ سَبَبًا لِّقِرَائَتِہٖ لَا یَخْرُجُ مِنَ الدُّنْیَا اِلَّا بِالْاِیْمَانِ وَ یَدْخُلُ الْجَنَّۃَ بِغَیْرِ حِسَابٍ

অর্থ: খলীফা হযরতে আলী মওলা (কার্রামাল্লাহু ওয়াজহাহু) বলেন: “যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী (ﷺ)-কে শ্রদ্ধা করেন, তাঁর জন্যে মীলাদুন্নবী (ﷺ)-এর যিকির পৃথিবী থেকে ঈমান সহকারে ইন্তেক্বাল ও বিনা জবাবদিহিতে বেহেশতে প্রবেশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।” [প্রাগুক্ত, ৮ পৃষ্ঠা]

প্রশ্ন

ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী মক্কী শাফেঈ (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর "আন-নে'মাতুল-কুবরা’ 'আলাল-আলম ফী মওলিদে সাইয়্যেদে ওয়ালাদে আদম" শীর্ষক বইতে মীলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ফজীলত সম্পর্কে চারজন সঠিক পথপ্রদর্শক খলীফার বক্তব্য কি স্রেফ বানোয়াট? আপনি কি এগুলো কোনো বইতে দেখেছেন বা কোনো পুণ্যাত্মা পূর্বসূরীর কাছ থেকে শুনেছেন?

উত্তর

ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর ’আন্-নে'মাতুল কুবরা’য় লিপিবদ্ধ মীলাদ শরীফ সম্পর্কে সর্ব-হযরত আবূ বকর, উমর, উসমান এবং আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বক্তব্য গবেষণা ছাড়া নিজ হতে বানোয়াট হিসেবে চিহ্নিত করার এখতেয়ার আমার নেই। কেননা এটা তাদেরই পথ, যারা তাদের নিজস্ব বুদ্ধিবিবেচনা ও জ্ঞানের স্তরকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করে এবং যারা কিছু বইতে এটা খুঁজে না পেয়ে দ্রুত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে কোনো বইতে এর উল্লেখ করা হয়নি। মুহাদ্দেসীন তথা হাদীসবিদ উলামা বেশিরভাগ হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন, কিন্তু এমন অনেক হাদীস আছে যা আউলিয়া, কাশফ (আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টি)-সম্পন্ন পুণ্যাত্মাবৃন্দ উল্লেখ করেছেন, অথচ মুখাররিজীন (তথা হাদীসের ইসনাদ অনুসন্ধান ও গবেষণাকারী উলামা)-এর কাছে সেগুলো সম্পর্কে কোনো ধারণা বা হদিস নেই, যা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে মাসানিদ (মুসনাদ সঙ্কলনের বহুবচন), মা'আজিম (মু'জাম সঙ্কলনের বহুবচন), সিহাহ (সহীহ সঙ্কলনের বহুবচন) এবং সুনানে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সমস্ত হাদীস সম্পূর্ণরূপে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কিছু হাদীস এসব সঙ্কলন থেকে বাদ পড়েছে। নবী পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-বৃন্দের বাণী/বক্তব্যের ক্ষেত্রেও একই কথা, যা সংকলিত হয়নি। তাই এখন যদি কোনো নির্ভরযোগ্য এবং মহান আলেম এগুলো লিপিবদ্ধ করেন, তবে তা তাঁরই কর্তৃত্বে এবং তিনি তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, এটা তাঁদের প্রতি আরোপ করা এবং তাঁদের প্রতি আস্থা রাখা যে নিশ্চয় এই বর্ণনার ভিত্তি রয়েছে। এটাকে জাল বলে চিহ্নিত করা আমার ক্ষমতা ও এখতেয়ার-বহির্ভূত। ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী মক্কী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) এটা লিখেছেন এবং তিনি অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য এবং (হাদীস যাচাই-বাছাইয়ে) সতর্ক এক জ্ঞান বিশারদ, তাই অবশ্যঅবশ্য এর কোনো ভিত্তি রয়েছে। এটাকে বানোয়াট বলা ওহাবী এবং গায়রে মুকাল্লিদদের কুটিল মতবাদ। আজকাল আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় হতে পাশ করা অনেক নতুন আলেম সাধারণত অসংখ্য হাদীসকে "নিজেরা খুঁজে না পাওয়ার" ভিত্তিতে শ্রেণিবদ্ধ করে থাকেন। তাঁরা এর উৎসে পৌঁছুনোর অভাবকে একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেন। আরেক কথায়, তাঁরা তাঁদের জ্ঞানের অভাবকে জ্ঞানের অনুপস্থিতি হিসাবে বিবেচনা করেন, অথবা রেফারেন্সের অনুপস্থিতিকে অনস্তিত্বশীল এমন কিছুর উল্লেখ হিসেবে গ্রহণ করেন। এটা তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতার প্রকৃতির কারণে। তাঁদের অবশ্যই জানতে হবে তাঁরা কী করছেন!

আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, আমাদের মহান ইমামবৃন্দ যা-ই লিখেছেন, সঠিক প্রমাণ ও গবেষণা ছাড়া তা উপেক্ষা করার সাহস আমাদের নেই।

এ প্রসঙ্গে আমি নিম্নের হাদীসটি বর্ণনা করতে চাই:

اَصْحَابِیْ کَالنُّجُوْمِ بِاَیِّھِمْ اِقْتَدَیْتُمْ اِھْتَدَیْتُمْ

অর্থ: আমার সাহাবীরা তারকাতুল্য, তোমরা তাদের যে কাউকে অনুসরণ করলে হেদায়েত (তথা সঠিক পথের দিশা) পাবে।

হাদীসশাস্ত্রবিদ উলামা এই হাদীসের (মানে এর সনদের) অনেক সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বেশিরভাগের মতে, এই হাদীসটি কোনো কিছুর (তথা ভিত্তির) উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। হাদীসের মহান জ্ঞান বিশারদ হিসেবে ধারণাকৃত ব্যক্তি, এবং কখনো কখনো এমন কী উলামায়ে কেরামও সেগুলোর উল্লেখ করেছেন; যেমন ইবনে হাজম, যিনি নিজেকে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত থেকে অনেক দিক দিয়ে বিচ্ছিন্ন করেছিলেন, যদিও কিছু উলামা এখনো তাঁর মতামত গ্রহণ করেন। একই ইবনে হাজম এই হাদীসটিকে জাল বলে চিহ্নিত করেছেন এবং আমাদের উলামা এমন কী তা উদ্ধৃত করেছেন এ মর্মে যে, এই হাদিসটি জাল, যেহেতু ইবনে হাজম এটাকে জাল হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। এই বিষয়ে আরো অনেক হাদীস-বিদ্বানের মতামত উল্লেখ করা হয়েছে; যেমন আবু যুরআ, ইবনে আদী প্রমুখ। আমি এই বিষয়ে "আসহাবী কান্নুজূম…ইহতাদাইতুম" শিরোনামে একটি থিসিস লিখেছি। আমি নিরূপণ করেছি যে অনেক সময় মুহাদ্দিসীন উলামা একটি বর্ণনাকে জাল হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন, কেননা তাঁরা এর সনদ খুঁজে পাননি; কিন্তু তাঁদের (উদ্দেশ্যকৃত) অর্থ এই নয় যে আসলে এমন কোনো হাদীসই নেই। এটাকে ভুল বুঝে অন্ধ হয়ে কিছু নতুন পণ্ডিত এই হাদীসগুলোকে জাল বলে আখ্যা দেন; কারণ তাঁরা স্রেফ মুহাদ্দিসীন-সূত্রে এর উৎস খুঁজে পাননি। এর কারণ হলো হাদীসের পরিভাষা এবং হাদীস-বিশারদদের পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁদের অজ্ঞতা। এটা তাঁদের নিজস্ব চিন্তাভাবনার বানোয়াট রূপ। লোকেরা এই হাদীসটিকে জাল বলে অভিহিত করেছেন এবং এর সমস্ত বর্ণনার ইসনাদকে দুর্বল বলে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন; কিন্তু মুহাদ্দিস পণ্ডিতদের মধ্যে এর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা এবং তাঁরা কোনো আপত্তি ছাড়াই এটাকে গ্রহণ করার ব্যাপারটা এটার অন্যতম শক্তি, আর এই হাদীসের যে একটা ভিত্তি রয়েছে, তাই এতে প্রতিভাত হয়।

একইভাবে, ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর ’আন্-নে'মাতুল কুবরা’ গ্রন্থে তিনি যা লিখেছেন, উলামা কেরাম এটাকে কোনো আপত্তি ছাড়াই গ্রহণ করে আসছেন। অতএব, এটাকে জাল বলা অযৌক্তিক। উলামাদের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করে যে এর অবশ্যই একটি ভিত্তি রয়েছে।

সমাপ্ত


মূল উর্দূ অডিও টেপ লিঙ্ক: https://jamiaturraza.com/session/20Feb11/23.mp3


বঙ্গানুবাদকের প্রাসঙ্গিক অথচ তীর্যক মন্তব্য

আচ্ছা মিয়ারা, যারা হযরত ইমাম ইবনে হাজর (রহ.)-এর বিরোধিতাকারী, তোমরা বলো তো - প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বেলাদত/মীলাদ তথা ধরাধামে শুভাগমন না হলে তোমরা কি ইসলামী শরীয়ত তথা বিধিবিধান পেতে? শরীয়তের দলিল কুর’আন, হাদীস ইত্যাদি পেতে? কোথায় পেতে হাদীসের ইসনাদ আর তোমাদের এতদসংক্রান্ত ধর্মীয় পণ্ডিতি? মিয়ারা, তোমরা আউলিয়া যাঁরা খোদার নৈকট্যপ্রাপ্ত, তাঁদের না চিনে তাঁদের কাশফের তথা দিব্যদৃষ্টিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছো, অথচ কুর’আন মজীদেই সূরাহ কাহাফের ৬৫-৮২ আয়াতে পয়গাম্বর মূসা (আলাইহিস্ সালাম) ও খিজির (আলাইহিস্ সালাম)-এর ঘটনার মধ্যে আল্লাহতায়ালা দৃষ্টান্ত রেখে দিয়েছেন কোন্ পথ নিতে হবে। খিযির (আলাইহিস্ সালাম) যা যা করেছিলেন, তা কোন্ শরঈ দলিলের ভিত্তিতে করেছিলেন বলতে পারবে কি? কীই বা তার ‘ইসনাদ’ ছিলো? তখন ছিলো তওরাত কিতাব, যার বিধান ছিলো জারি। মূসা (আলাইহিস্ সালাম) সেই বিধানের আলোকেই খিজির (আলাইহিস্ সালাম)-এর কাজের বিরোধিতা করেছিলেন। শরীয়তে মুহাম্মদীয়া’তেও একই বিধান জারি আছে। কিন্তু খিজির (আলাইহিস্ সালাম) যা যা করেছিলেন, তা ছিলো আল্লাহরই নির্দেশক্রমে - একেবারেই কাশফ/দিব্যদৃষ্টি ও কারামতের ভিত্তিতে। কেননা তিনি আল্লাহর ‘অনুগ্রহ’ ও ’ইলমে লাদুন্নী’-প্রাপ্ত। আল্লাহর এরাদা তিনি এ নৈকট্যের বলেই জেনেছিলেন; ওই সময় তাঁর সাথে ছিলো না কোনো ঐশী কিতাব! একইভাবে, উম্মতে মুহাম্মদীর চার খলীফা (রা.)-ও আধ্যাত্মিকতায় সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হয়েছেন। তাঁরা কাশফের বলে যা যা বলেছেন, তা প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ‘রহমত’ দ্বারা মু’মিন মুসলমান সমাজ অর্জন করবেন - এ কথা তো অনস্বীকার্য! আমরা নগণ্য উম্মত বদর, হুনায়ন দেখি নি, সাহাবা, বিশেষ করে চার খলীফা (রা.)-এর সোহবত পাইনি, আমলও পুরো করতে পারি নি, এমতাবস্থায় রাসূল (দ.)-এর যিকর যা সূরাহ আলাম নাশরাহ-লাকা’তে আল্লাহতায়ালা সমুন্নত করেছেন বলে জানিয়েছেন, তা পালন করতে তোমাদের এতো আপত্তি কেন? বলাই বাহুল্য যে, তিনি ধরণীতলে শুভাগমন না করলে কোথায় যেতো তোমাদের আমল, আর কোথায় যেতো তোমাদের সহীহ হাদীসচর্চা! ইমাম ইবনু হাজর (রহ.)-এর কাশফকে তাই অবজ্ঞা কোরো না! নইলে আখেরাতে আল্লাহর কাঠগড়ায় জবাবদিহি করতে হবে। কেননা হযরত ইমাম (রা.)-এর বর্ণনাগুলো শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। যিকরে রাসূল (দ.) কেন সমুন্নত? মুসলমানদের দুনিয়াবী ও উখরাভী তরক্কীর জন্যে! তিনি আমাদের জন্যে আল্লাহর রহমত! হাদীসে এসেছে “কেউই তার আমলের জন্যে নাজাতপ্রাপ্ত হবে না।” জিজ্ঞাসিত হওয়ার পর তিনি বলেন তাঁর ক্ষেত্রেও তাই। একমাত্র আল্লাহর রহমতই নাজাতের উৎস হবে। এখানে বোঝা দরকার যে, আল্লাহর রহমত স্বয়ং রাসূল (দ.) [সূরাহ আম্বিয়া, ১০৭ আয়াত]!