ব্লগ সংরক্ষাণাগার

রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

ইমাম গাজ্জালী নাকি গাজালী (রহ.)?

লেখক: শফীক্ব আল-মুজাদ্দেদী 

(ফেসবুক বন্ধু)


হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ আল-গাজ্জালী (রহ.)-এঁর নামের সঙ্গে যুক্ত নিসবা "الغزالي " বাংলা ভাষায় সাধারণত দুটি রূপে লেখা হয়, গাজ্জালী এবং গাজালী। কোনটি অধিক শুদ্ধ ও ঐতিহাসিকভাবে গ্রহণযোগ্য; এ বিষয়ে প্রাচীন জীবনীকার ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে দুটি প্রসিদ্ধ মত পাওয়া যায়।

• প্রথম মত: পৈতৃক পেশার দিকে নিসবা করে "গাজ্জালী"
অধিকাংশ ঐতিহাসিক ও তাবাকাতবিদের মতে, ইমাম গাজ্জালীর পূর্বপুরুষ পশম বা উল কেটে সুতা (غزل) প্রস্তুত ও বয়নের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। আরবি "غزال " অর্থ পশম বা উল থেকে সুতা প্রস্তুতকারী। সেই পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত নিসবা হিসেবেই তাঁদের পরিবার (পারিবারিক পেশাগত উপাধি) "আল-গাযযালী" (الغزالي) নামে পরিচিতি লাভ করে।
যেমন:
১. ইমাম ইবনুল আছীর (রহ:) [৫৫৫-৬৩০ হি./১১৬০-১২৩৩ খ্রি.]:
তিনি বলেন, "আল-গাযযালী" শব্দটি গাইন (غ) -এর পর শাদ্দাযুক্ত যাই ( ّز) সহ উচ্চারিত হয়। তাঁর মতে, এটি "গাযযাল" অর্থাৎ সুতা প্রস্তুতকারীর পেশাগত পরিচয় থেকে উদ্ভূত। তিনি আরও বলেন, খাওয়ারিজম ও জুরজান অঞ্চলের ভাষাগত রীতিতে পেশাভিত্তিক নিসবা প্রচলিত ছিল। যেমন, আল-আসসার থেকে আল-আসসারী। একইভাবে আল-গাযযালী-ও একটি পেশাভিত্তিক নিসবা।
তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ এটিকে শাদ্দাহবিহীন "গাযালী" উচ্চারণ করে থাকেন, যা তুসের নিকটবর্তী তাঁর জন্মস্থান গাযালা গ্রামের দিকে নিসবা করে। কিন্তু তাঁর মতে, এই মতটি প্রসিদ্ধ অভিমতের পরিপন্থী'।
২. ইবনু খাল্লিকান (৬০৮-৬৮১ হি./১২১১-১২৮২ খ্রি.):
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, আল-গাযযালী (الغزالی) উচ্চারণই প্রসিদ্ধ ও অধিক গ্রহণযোগ্য। এটি গাযযাল (الغزال) অর্থাৎ সুতা প্রস্তুতকারীর পেশাগত পরিচয় থেকে উদ্ভূত নিসবা। তিনি উদাহরণ দেন, আল-কাসসার থেকে আল-কাসসারী এবং আল-আত্তার থেকে আল-আত্তারী-এর মতো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শাদ্দাহবিহীন গাযালী উচ্চারণের একটি মত থাকলেও তা তুলনামূলকভাবে কম প্রসিদ্ধ। তাঁর মতে:
والمشهور بتشديد الزاي نسبة إلى غزال، وهو الذي يغزل الصوف.
অর্থাৎ,
"প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ উচ্চারণ হলো যাই-এ শাদ্দাসহ (গাযযালী)। এটি 'গাযযাল' অর্থাৎ পশম কেটে সুতা প্রস্তুতকারীর প্রতি নিসবা।"
৩. ইমাম যাহাবী (৬৭৩-৭৪৮ হি./১২৭৪-১৩৪৮ খ্রি.):
ইমাম যাহাবী (রহ:) বলেন, আল-গাযযালী, আল-আত্তারী এবং আল-খাব্বাযী প্রভৃতি উপাধি মূলত বিভিন্ন পেশা বা বৃত্তির প্রতি নিসবা নির্দেশ করে। ফারসি ভাষায় প্রচলিত পেশাবাচক শব্দের সঙ্গে আরবি নিসবা-সূচক "ইয়া" যুক্ত করেই এসব উপাধি গঠিত হয়েছে।
৪. তাজউদ্দীন আস-সুবকী (৭২৭-৭৭১ হি./১৩২৭-১৩৭০ খ্রি.):
তিনি উল্লেখ করেন যে, ইমাম গাজ্জালীর পিতা ছিলেন একজন গাযযাল, অর্থাৎ পশম কেটে সুতা প্রস্তুতকারক। তিনি তুসে নিজের দোকানে সুতা বিক্রি করতেন। এ কারণেই "গাজ্জালী" নিসবাটি অধিক প্রসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে।
৫. ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (৮৪৯-৯১১ হি./১৪৪৫-১৫০৫ খ্রি.):
তিনি উভয় মত উল্লেখ করলেও স্পষ্টভাবে বলেন, প্রসিদ্ধ ও অধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো গাযযাল পেশার দিকে নিসবা করে গাজ্জালী উচ্চারণ।
৬. ইমাম মুরতাদা আয-যাবিদী (১১৪৫-১২০৫ হি./১৭৩২-১৭৯০ খ্রি.):
তিনি উল্লেখ করেন যে, গাযালা তুসের একটি গ্রামের নাম। কোনো কোনো আলিম এই গ্রামের প্রতি নিসবা করে গাযালী উচ্চারণ করেছেন। তবে তিনি ইবনুল আছীরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, প্রসিদ্ধ ও অধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো গাযযালী, যা পেশাভিত্তিক নিসবা'।
• দ্বিতীয় মত: জন্মস্থানের দিকে নিসবা করে "গাজালী"
অন্য একটি মত অনুযায়ী, ইমাম গাজ্জালীর নিসবা তাঁর জন্মস্থান তুসের নিকটবর্তী গাযালা (غزالة) গ্রামের প্রতি। এ মত অনুসারে তাঁর নাম "আল-গাযালী" (الغزالي) হবে, যেখানে যাই (ز)-এ শাদ্দাহ থাকবে না।
১. ইমাম নববী (৬৩১-৬৭৬ হি./১২৩৩-১২৭৭ খ্রি.):
তিনি উল্লেখ করেন যে, যদিও সাধারণভাবে তাঁকে গাজ্জালী বলা হয়, তবু একটি বর্ণনায় ইমাম গাজ্জালী নিজেই বলেছেন:
"আমি গাজ্জালী নই; বরং গাজালী। কারণ আমার নিসবা তুসের নিকটবর্তী গাযালা গ্রামের প্রতি'।" অর্থাৎ এখানে তিনি বংশীয় পেশাগত উপাধি থেকে জন্মস্থানের নিসবা গ্রহণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
২. সালাহুদ্দীন সাফাদী (৬৯৬-৭৬৪ হি./১২৯৬-১৩৬৩ খ্রি.)
তিনি একই ধরনের একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেন। সেখানে বলা হয়েছে: "লোকেরা আমাকে গাযযালের (পেশাগত নিসবা) সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করে। অথচ আমি গাযালী; কারণ আমার নিসবা গাযালা নামক গ্রামের প্রতি।"
সারসংক্ষেপ:
ঐতিহাসিক ও তাবাকাত গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, "গাজ্জালী" উচ্চারণ ও বানানই অধিক প্রসিদ্ধ এবং অধিকাংশ জীবনীকার, ভাষাবিদ ও ইতিহাসবিদের নিকট অধিক গ্রহণযোগ্য। সিরিয়ার আরবি একাডেমির গবেষক মুহাম্মদ ইবন আবু শানাব শাদ্দাসহ "গাজ্জালী" বানানকেই ভাষাগতভাবে অধিক সঠিক বলে মত প্রকাশ করেছেন। যার প্রধান ভিত্তি হলো ইমাম গাজ্জালীর পারিবারিক পেশা, অর্থাৎ গাযযাল (পশম কেটে সুতা প্রস্তুতকারী)।
অন্যদিকে, "গাজালী" উচ্চারণের পক্ষে যে বর্ণনা ইমাম নববী (রহ.) ও সাফাদী (রহ.) উদ্ধৃত করেছেন, তার সনদ শক্তিশালী নয়। ফলে এটিকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা কঠিন। এ কারণে অধিকাংশ মুহাক্কিকের নিকট গাযযাল পেশা থেকে উদ্ভূত "গাজ্জালী" নিসবাটিই অধিকতর শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়।
তবে এটাও সঠিক যে, "গাজালী" মতটি প্রাচীন গ্রন্থসমূহে উল্লেখিত একটি ঐতিহাসিক মত। তাই একে সম্পূর্ণ অশুদ্ধ বলা যাবে না। গবেষণার আলোকে বলা যায়, "গাজ্জালী" অধিক প্রসিদ্ধ ও অধিক গ্রহণযোগ্য হলেও "গাজালী"-ও একটি স্বীকৃত, ঐতিহাসিক উচ্চারণ ও বানান।
মোদ্দা কথা: কেউ যদি উনার পেশাগত উপাধির দিকে নিসবা করেন তবে গাজ্জালী এবং জন্মস্থানের দিকে নিসবা করলে গাজালী। দুটোই শুদ্ধ। কোনটাকেই ভুল বলা যাবে না। তবে অধিক গ্রহণযোগ্য ও প্রসিদ্ধ হচ্ছে ❝গাযযালী❞।
শুধু ইমাম গাজ্জালী (রহ:) এঁর ক্ষেত্রে নয় বরং প্রায় শতাধিক ব্যক্তিদের নামের উপাধিতে এমন তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। সেগুলো উল্লেখ করলে লেখার কলেবর বৃদ্ধি পেয়ে পাঠকদের ধৈর্য চ্যুতি হতে পারে বিধায় সংক্ষেপ করা। আর এগুলো উনাদের নাম নয় বরং নামের পরিচিত (উপাধি) বা নিসবা।
Note:
1. ইবনুল আছির, আবুল হাসান আলী ইবন আবীল কারম মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল করিম ইবন আব্দুল ওয়াহেদ, আল লুবাব ফী তাহরীরিল আনসাব, (বৈরুত: দারু সাদির), খ. ২, পৃ. ৩৭৯।
2. ইবনে খাল্লিকান, আবুল আব্বাস শামসুদ্দীন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহীম ইবন আবু বকর, (বৈরুত: দারু সাদির), খ. ১, পৃ. ৯৮।
3. ইমাম যাহাবী, সামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন উসমান, সিয়ারু আলামিন নুবালা, (বৈরুত: মুয়াসসাতুর রিসালাহ, ৩য় মুদ্রণ, ১৯৮৫), খ. ১৯, পৃ. ৩৪৩।
4. সুবকী, তাজ উদ্দীন আব্দুল ওহাব ইবন তাকী উদ্দীন সুবকী, তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ আল-কুবরা, (কায়রো: দারুল হিজর, ২য় মুদ্রণ, ১৪১৩হি.), খ. ৬, পৃ. ১৯৩।
5. ইমাম সুয়ূতী, আব্দুর রহমান ইবন আবু বকর জালালুদ্দীন, লুব্বুল লুবাব ফী তাহরীরিল আনসাব, (বৈরুত: দারু সাদির), পৃ. ১৮৬।
6. যাবিদী, মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুর রাজ্জাক হুসাইনী, তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরুল কামুস, বৈরুত: দারুল হিদায়াহ, খ.৩০, পৃ. ৯৭।
7. নববী, আবু যাকারিয়া মুহি উদ্দীন ইয়াহিয়া ইবন শারাফ, আত তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন, (বৈরুত: দারু ইবন আল-হাযম, ৩য় মুদ্রণ, ১৯৯৪), পৃ. ২১৫।
8. সাফাদী, সালাহ উদ্দীন খলিল ইবন আইবেক ইবন আব্দুল্লাহ, আল-ওয়াফী বিল ওফায়াত, (বৈরুত: দারু ইহইয়াউত তুরাস, ২০০০), খ. ১, পৃ. ২১৩।

[এডমিনের ভাষ্য: এ লেখাটিতে সমস্ত গবেষণাই লেখকের। এডমিন এতে জড়িত নই, আর সম্পাদনাও করা হয়নি।]

সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

কারবালার ঘটনায় সাহাবা ও তাবিঈ জড়িত মর্মে শিয়া অপযুক্তির জবাব

লেখক: মওলানা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম
(৪-৮-২০২৩)

[গবেষণামূলক লেখাটি লেখকের নিজস্ব। এডমিন এ লেখার সাথে যুক্ত নন। তবে সম্পাদনা করা হয়েছে - এডমিন।]


 #ডক্টর_তাহিরুল কাদেরির একনিষ্ঠ অনুসারী শিয়াপন্থী #বাতেন ও হঠাৎ করে গজিয়ে উঠা #শিয়াল পণ্ডিতের ইজতিহাদ তথা ফাসাদাত দেখে সুন্নি ভাইদের আক্কেলগুড়ুম। তাবিয়ি শব্দের সঠিক সংজ্ঞা ও প্রয়োগ যে সমস্ত বদ-আকল ও কম-সমঝদার লোকের নাই তারা সন্মানিত সাহাবি ও তাবিয়িনদের সন্মানহানি করবে, এটাই স্বাভাবিক। কারণ তারা তাদের রুহানি পূর্বপুরুষ কুফার মেকি মহব্বতকারী কুফিদের কাছ থেকে ওয়ারিসসূত্রে "সাহাবা বিদ্বেষ"-এর মত জঘন্য ‘নেয়ামত’ লাভ করেছে। তাই তাদের প্রতিটি কথা, লেখা ও বক্তব্যে আপনি সাহাবায়ে কিরামের শানে কোন না কোনভাবে গোস্তাখি দেখতে পাবেন।

এবার আসুন স্ক্রিনশটে দুই গোস্তাখে সাহাবা-তাবিয়িনের কথার পর্যালোচনায়:
-----
#মিনহাজি বাতেনের দাবি- আটজন সাহাবি সাইয়্যিদুনা হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর হত্যায় জড়িত ছিলেন। বাতেনের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ থাকলো যে, সে যেন সহিহ সনদের মাধ্যমে আটজন সাহাবির হযরত হুসাইন হত্যায় জড়িত থাকার প্রমাণ মুসলিম ঐতিহাসিকদের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ থেকে প্রমাণ করে।
#শিয়াল পণ্ডিত বাতেনের দ্বিতীয় দাবি হলো- মালউন ইয়াযিদের সৈন্যবাহিনীতে ২২ হাজার সেনা তাবিয়ি ছিল। এতবড় গর্দভ মার্কা কথা এই পর্যন্ত কোন ইরানি শিয়াও বলেছে বলে আমাদের জানা নেই। বিগত চৌদ্দশত বৎসরের ইসলামের ইতিহাসে তো থাকার প্রশ্নই আসে না। অথচ হাজারো ইমাম, মুজতাহিদ ও ঐতিহাসিক কারবালার ঘটনা কমবেশি নিজেদের গ্রন্থে তুলে ধরছেন-কেউ কখনো এই ধরনের মস্তিষ্কবিকৃত দাবি করেন নি। তাবিয়ির সংজ্ঞা কি- এই কথা কি ইমাম, মুজতাহিদ ও ঐতিহাসিকগণ এই সমস্ত বদ আকিদাধারী জাহেলদের চেয়ে কম জানতেন?
#যদি মালউন ইয়াযিদের সেনারা তাবিয়ি হয়, তাহলে শিয়াল পণ্ডিতদের উসূল মুতাবিক মালউন ইয়াযিদ বড় তাবিয়ি। অথচ আহলে সুন্নাতের অধিকাংশ ইয়াযিদকে তাবিয়ি হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। বরং আহলে সুন্নাতের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ ইয়াযিদ ও তার সহযোগীদের লানত দিয়েছেন। যদি তারা তাবেয়ির সংজ্ঞার আওতায় হতো, তাহলে কোন ইমামের সেই দুঃসাহস কি ছিলো যে তাঁরা ওই সন্মানিত তাবিয়ি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমকে লানত করবেন, সহিহ হাদিস শরীফে আল্লাহর হাবিব ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম যাঁদেরকে জাহান্নাম স্পর্শ করবেনা বলে সুসংবাদ দিয়েছিলেন?
#আজ এই সাহাবি বিদ্বেষী জাহিলদের রুহানি আব্বা বেঈমান কুফিদের কিতাব থেকেই প্রমাণ করবো- মালউন ইয়াযিদের হুকুমে দুনিয়া লাভের জন্য বিক্রি হওয়া মেকি মহব্বতকারী কুফি শিয়ারাই সাইয়্যিদুনা হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে শহিদ করেছে।
------
💥শিয়াদের খাতেমুল মুহাদ্দিসিন, মুল্লা বাকের মজলিসি লিখেন-
"وکان جمیع من حضر مقتل حسین من العساکر وحاربه وتولی قتله من اھل الکوفة خاصة لم یحضرھم شامی۔"
[کتاب بحار الانوار ج ۱۰ ص ۲۳۱]
-ঐ সমস্ত লোক যারা হযরত হুসাইনের শাহাদতে অংশ নিয়েছে, উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তাঁকে শহিদ করেছে, তারা সবাই কুফার অধিবাসী ছিল।শামের (মানে সিরিয়ার) কোন লোক ঐ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। [ বিহারুল আনওয়ার]
💥শিয়াদের মুহাদ্দিসে আযম, ঐতিহাসিক মাসউদি লিখেন-
"وتولی قتله من اھل الکوفة خاصة لم یحضرھم شامی۔"
[ مروج الذھب ]
- হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে একমাত্র কুফিরা (শিয়ারা) হত্যা করেছে। ওখানে কোন শামবাসী উপস্থিত ছিল না।
[মুরাওওয়াজুয যাহাব]
💥শিয়া মুজতাহিদ আলি বিন হাদি বলেন-
"لیس فیھم شامی ولا حجازی بل جمیعھم من اھل الکوفة۔"
[خلاصة المصائب ص ۲۰۱]
- হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর হত্যাকারীদের মধ্যে শাম ও হিজাযের কেউ ছিলেন না, বরং সবাই কুফার অধিবাসী ছিলো।
[খুলাসাতুল মাসায়িব]
💥কারবালা থেকে যখন ইমাম যায়নুল আবেদিন রাদিয়াল্লাহু আনহুউসহ পরিবারের অবশিষ্টদের কুফায় আনা হলো, তখন আহলে বাইতের সন্মানিত সদস্যদের দেখে কুফার মহিলারা ঘর থেকে বের হয়ে এসে কাঁদতে লাগলো। এই দৃশ্য দেখে ইমাম যায়নুল আবেদিন রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন-
"لما دخل علی بن الحسین الکوفة رای نساءھا یبکین ویصرخن فقال! ھٰؤلاء یبکین علینا فمن قتلنا؟ ای من قتلنا غیرھم م!
[تاریخ یعقوبی ج ۱ ص ۲۳۵]
- এরা যদি আমাদের জন্য কান্না করে, তাহলে আমাদেরকে শহিদ করলো কারা??
[তারিখে ইয়াকুবি- শিয়া মুজতাহিদ ও ঐতিহাসিক আহমদ বিন ইয়াকুব]
💥শিয়াদের ষষ্ঠ হিজরির সবচেয়ে বড় মুহাদ্দিস, আবু মনসুর আহমদ কুফি- কুফায় আহলে বাইতকে দেখে মহিলা ও পুরুষদের কান্না, মাতম ইত্যাদির কথা লিখে ইমাম যায়নুল আবেদিনের বক্তব্য উল্লেখ করেন। ইমাম বলেন- " এই কুফার লোকেরা কান্না করছে। কিন্তু তারা ছাড়া আমাদেরকে কারা হত্যা করেছে??
[احتجاج طبرسی ص ۱۵۸]
[ইহতিজাজে তাবরিসি]
#উপরোক্ত কথাগুলো কিছু শব্দের ভিন্নতায় শিয়াদের আরো গ্রন্থে উল্লেখ আছে, যা ইমাম যায়নুল আবেদিন রাদিয়াল্লাহু আনহু বেঈমান কুফাবাসীকে উদ্দেশ্যে করে বলেছিলেন। মানে আমাদেরকে কুফার শিয়ারাই শহিদ করেছে। যেমন-
👉 জালাউল উয়ুন, বাকের মজলিসি
-বিহারুল আনওয়ার- বাকের মজলিসি খন্ড ৫৫, পৃষ্ঠা৩৪
👉 ইহতিজাজে তাবরিসি- আবু মনসুর আহমদ, পৃষ্ঠা১৫৯।
💢সাইয়্যিদুনা হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর আপন বোন সাইয়্যিদাহ যায়নাব বিনতে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা, সাইয়্যিদুনা ইমাম বাকির রাদিয়াল্লাহু আনহু, সাইয়্যিদাহ উম্মে কুলসূম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ও সাইয়্যিদুনা হুসাইনের মেয়ে সাইয়্যিদাহ ফাতেমা বিনতে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহাও মায়াকান্নাকারী কুফার বেঈমান কুফিদের উদ্দেশ্যে একই ধরনের কথা বলেন। তথ্য জানার জন্য দেখুন-
👉 মুল্লা বাকির মজলিসির জালাউল উয়ুন, পৃষ্ঠা ৫০৩, ৩২৬
👉 নাসিখুত তাওয়ারিখ- মির্জা মুহাম্মদ তক্বি সিপেহর, পৃষ্ঠা ৩০১।
-----------

সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

কুর’আনে উক্ত ‘শা’আইরুল্লাহ’র অন্তর্ভুক্ত আউলিয়া (রহ.)’র মাজার শরীফও

 -এডমিন


আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন -
ذٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى ٱلْقُلُوبِ.

অর্থ: কথা হচ্ছে এই, যে কেউ আল্লাহর শা’আইরুল্লাহ/নিদর্শনাবলীকে সম্মান করে, তবে এটা অন্তরগুলোর পরহেযগারী/খোদাভীরুতার লক্ষণ। [সূরাহ হাজ্জ, ৩২ আয়াত; তাফসীরে নূরুল ইরফান]

হাকিমুল উম্মত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন সাহেব (রহমতুল্লাহি আলাইহি) আয়াতটির ব্যাখ্যায় লেখেন, “বোঝা গেলো যে, বাহ্যিক ইবাদতগুলো হচ্ছে বাহ্যিক দেহের তাক্বওয়া/খোদাভীরুতা/পরহেযগারী। আর অন্তরে বুযর্গব্যক্তিবৃন্দ ও তাঁদের তাবার্রুকগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন হচ্ছে অন্তরের তাক্বওয়া। আল্লাহ নসীব করুন (আমীন)! এ কথাও বোঝা গেলো, যে পশু ও পাথরের সম্পর্ক সম্মানিত পুণ্যাত্মাবৃন্দের সাথে হয়ে যায়, তা শা’আইরুল্লাহ বা আল্লাহর নিদর্শনাদি হয়ে যায়। হাদী‘র (কুরবানী) পশুগুলোকে কা’বার সাথে সম্পর্কের কারণে, সাফা ও মারওয়া পর্বত দুটিকে কা’বাওয়ালী হযরতে হাজেরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)’র বরকতে আল্লাহর নিদর্শন বলেছেন আল্লাহ আপন পবিত্র গ্রন্থে। তাফসীরে রূহুল বয়ান গ্রন্থপ্রণেতা ইমাম ইসমাঈল হাক্কী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বর্ণনা করেছেন - বুযর্গবৃন্দের মাজার শরীফও শা’আইরুল্লাহ, আর যে ব্যক্তিদের সম্পর্ক আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের সাথে হয়ে যায়, সবই শা’আইরুল্লাহ। [তাফসীরে নূরুল ইরফান, ২২/৩২; টীকা নং ৭৪; বাংলা সংস্করণ]

বিখ্যাত তাবেঈ (২য় প্রজন্ম) হযরত সুফিয়ান ইবনে উবায়নাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন - تنزل الرحمة عند ذكر الصالحين - অর্থ: ”পুণ্যাত্মা বুযূর্গানে দ্বীন/আউলিয়া কেরাম (রহ.)-এর যিকর/স্মরণ যেথা হয়, সেথা আল্লাহর রহমত নাজিল হয়।” হাফেজ ইরাকী ও ইবনে হাজর আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহিমা) স্পষ্ট করেছেন যে, এর অর্থ ও ভাবার্থ সম্পূর্ণ সঠিক ও গ্রহণযোগ্য [شبكة الألوكة]। বস্তুতঃ আউলিয়া কেরাম (রহ.)’এর মাজার শরীফে তাঁদেরই স্মরণে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করা হয়, যেমন - উরস/ফাতিহা, নজর/মানত, ওয়ায-যিকির, না’ত-নাশীদ, (রান্নাকৃত) তাবার্রুক বিতরণ ইত্যাদি। এগুলোর সবই শা’আইরুল্লাহ এবং বরকতময়। এগুলোকে শিরিক-বিদ’আত আখ্যা দেয়া এবং অপপ্রচার করাই হলো ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড! কেননা সহীহ বুখারী শরীফে উদ্ধৃত হয়েছে আল্লাহতায়ালার বাণী - مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ - অর্থ: যে ব্যক্তি আমার ওলীর বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো [বুখারী, হাদীসে কুদসী, ৬৫০২; অন্যান্য হাদীসগ্রন্থেও বর্ণিত]।
পরিশেষে বলবো, বর্তমানে ‘তওহীদী জনতা’ নাম গ্রহণ করে বিভিন্ন আউলিয়া (রহ.)’র মাজার-দরগাহে আক্রমণ পরিচালনা করছে একদল লোক। তারা সত্যিকার অর্থে আল্লাহর তওহীদ তথা একত্বে বিশ্বাস করে কি-না সন্দেহ! উপরোক্ত বুখারী ও অন্যান্য হাদীসগ্রন্থে আউলিয়া (রহ.)’র প্রতি বৈরিতার বিরুদ্ধে আল্লাহর কঠোর সতর্কবাণীকে বুড়ো আঙ্গুল প্রদর্শন করে তাঁদের মাজার-দরগাহ ভাঙ্গতে যায় যেসব লোক, জেনে হোক বা না জেনে হোক, তারা শয়তানের দোসর - কোনোক্রমেই তারা তাক্বওয়া বা খোদাভীতিসম্পন্ন নয়!
*সমাপ্ত*



শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

পবিত্র হাদীসের আলো: পেরেশানি দূর ও ঋণমুক্তির দোয়া


লেখক: মওলানা মুহাম্মদ রূবাইয়াত বিন মূসা 

 #পবিত্র_হাদীসের_আলো

হযরত আবূ উমামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একদিন রাসূলে পাক ﷺ মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন আমি (আবূ উমামা) নামাযের সময় ছাড়া বসে আছি।

তিনি বললেন, “হে আবূ উমামা! নামাযের সময় ছাড়া কেন বসে আছো?”

আমি বললাম, “ওগো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), দুশ্চিন্তা ও ঋণ আমাকে গ্রাস করেছে।”

তিনি বললেন, “আমি কি তোমাকে এমন কিছু শব্দ শিখিয়ে দেবো না—যদি তুমি তা পড়ো, তাহলে আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং তোমার ঋণ পরিশোধ করে দেবেন?”

আমি বললাম, “অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)!”

তখন তিনি বললেন, “সকাল ও সন্ধ্যায় এই দোয়া পড়বে—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ،
وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ،
وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ،
وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ.

”হযরত আবু উমামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, “আমি তা নিয়মিত পড়তে লাগলাম, ফলে আল্লাহ আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দিলেন এবং আমার ঋণ আদায় করে দিলেন।” [আবূ দাউদ : আস্ সুনান, হাদীস নং ১৫৫৫]

উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আ‘উযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযন,
ওয়া আ‘উযু বিকা মিনাল ‘আজযি ওয়াল কাসাল,
ওয়া আ‘উযু বিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখল,
ওয়া আ‘উযু বিকা মিন গালাবাতিদ দাইনি ওয়া কাহরির রিজাল।

বাংলা অনুবাদ

হে আল্লাহ!
আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই—
দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের অত্যাচার/চাপ থেকে।

শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

ফিরে দেখা আরব জাতিয়তাবাদের আত্মঘাত

 

-এডমিন।

আমাদের প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায়ী হজ্জ্বের ভাষণে বলেছিলেন - لا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ عَلَى أَعْجَمِيٍّ، وَلَا لِعَجَمِيٍّ عَلَى عَرَبِيٍّ، وَلَا لِأَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ وَلَا أَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ إِلَّا بِالتَّقْوَى - অনুবাদ: "আরবের ওপর অনারবের, অনারবের ওপর আরবের, সাদার ওপর কালোর বা কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) ভিত্তিতে (হবে)।" এটা তাঁর ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জ্বের খুতবার মূল অংশবিশেষ, যা বর্ণবাদ ও জাতিভেদ প্রথাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দেয়।

কিন্তু হায়! আরবীয় জাতিগোষ্ঠী মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী সম্পর্কে পুরোপুরি বিস্মৃত হয়ে ১৭৫০ খৃষ্টাব্দ সালে নজদ অঞ্চলের মুহাম্মদ ইবনে আবদিল ওয়াহহাবের মতো এক গণ্ডমূর্খের কথায় কর্ণপাত করে। অথচ এই ব্যক্তি হামফের নামের এক বৃটিশ গুপ্তচরের ধোঁকায় পড়ে ওহাবীবাদ প্রচার আরম্ভ করেছিলো (ওই একই বছর)। নজদ অঞ্চলের সৌদ গোত্র ওহাবী মতবাদকে বৃটিশের সহায়তায় পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং শেষমেশ আরবীয় জাতিয়তাবাদের ছদ্মাবরণে বৃটিশ গুপ্তচর কর্নেল লরেন্সের ষড়যন্ত্রে ও বৃটিশ বাহিনীর সহযোগিতায় উসমানীয় তুর্কী শাসকদের আরব অঞ্চল থেকে উৎখাত করে (১৯৩২ সাল)। এ এক করুণ ইতিহাস। কেননা তুর্কী শাসন ছিলো খাঁটি সুন্নী-সূফী মতাদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। আরবীয় জনগণের আত্মঘাতী এ ভ্রমের কারণে সুন্নী শাসনের অবসান হয় এবং এর পরপরই বৃটিশ বাহিনী গোটা আরব অঞ্চলটিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে পরিণত করে। বস্তুতঃ তারা এভাবেই মধ্যযুগে হেরে যাওয়া ক্রূসেইডগুলোর বদলা নেয়, আর আরবীয় জনগোষ্ঠী নিজেদের করুণ পরিণতি চেয়ে চেয়ে দেখে!

আজ ১০০ বছর পরেও ওই ভুল সিদ্ধান্তের কুফল আরবীয়দেরকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। বর্তমান ইরান যুদ্ধে আরবীয়দের আত্মোপলুব্ধি হলে হয়তো তারা এ রাহুগ্রাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, ইনশা’আল্লাহ। কাঙ্ক্ষিত ইমাম মাহদী (আলাইহিস্ সালাম)-এর শুভাগমন হলে অবশ্যঅবশ্য দিন আবার ফিরবে, মওলার মর্জিতে।
*সমাপ্ত*

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

ইসলামী স্বর্ণযুগে আরব ও বর্তমান আরব


-এডমিন।

এ বিষয়ে সংক্ষেপে বলবো, প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সোনালী যুগে এবং তৎপরবর্তী পুণ্যবান পূর্বসূরী (সালাফ) ও উত্তরসূরী (খালাফ)-দের হীরণ্ময় অতীতকালে ইসলামের পরম বিকাশ হয়েছিলো। মুসলিম শাসকবৃন্দও সামাজিক ন্যায়বিচার/ইনসাফ ও নিয়ম-নীতি অনুসারে রাজ্য শাসন করেছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামতের আলামত/লক্ষণ বর্ণনা প্রসঙ্গে যা যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তার সবই বর্তমানে প্রকাশিত হয়েছে। গুগল এ.আই.-কে আমি এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। উত্তর এখানে শেয়ার করা হলো:

আপনার উল্লেখিত বিষয়টি মূলত কিয়ামতের একটি উল্লেখযোগ্য আলামত বা চিহ্ন হিসেবে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত ‘হাদীসে জিবরাঈল’-এ এই বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে [১.৩.৫, ১.৪.৪]।

রাসূলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের নিদর্শন সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন:

“...যখন দেখবে যে, নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, দরিদ্র মেষপালকগণ সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে।” [১.২.২, ১.৩.১, ১.৪.২]

এই হাদীসটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

*হাদীসের উৎস ও তথ্য*

প্রধান উৎস: এই বর্ণনাটি সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ১), সহীহ বুখারী, সুনান ইবনে মাজাহ এবং মুসনাদে আহমাদ-সহ বিভিন্ন বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে [১.২.২, ১.৩.১, ১.৩.১০, ১.৪.৪]।

বর্ণনাকারী: প্রধানত হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এবং হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই হাদীসটি বর্ণিত [১.৩.২, ১.৩.৭, ১.৪.৯]।
*হাদীসটির তাৎপর্য*

১. আকস্মিক সচ্ছলতা: এখানে ‘নগ্নপদ ও বস্ত্রহীন রাখাল’ বলতে আরবের মরুচারী বেদুইনদের বোঝানো হয়েছে, যাদের এক সময় জীবনধারণের সামান্য সরঞ্জামও ছিল না [১.৩.৫, ১.৩.১০, ১.৩.১৩]।

২. উচ্চ ভবন নির্মাণের প্রতিযোগিতা: হাদীসে বলা হয়েছে যে, এই দরিদ্র রাখালরা হঠাৎ প্রচুর সম্পদের মালিক হবে এবং প্রয়োজনের তুলনায় কেবল নিজেদের বড়ত্ব প্রকাশের জন্য সুউচ্চ ভবন তৈরির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে [১.১.১০, ১.৩.৫, ১.৩.৬]।

৩. নেতৃত্ব ও ক্ষমতা: ইমাম কুরতুবী (রহ.)-এর মতো ব্যাখ্যাকারদের মতে, এর অর্থ হলো—সমাজের নিম্নস্তরের বা অযোগ্য লোকেরা রাষ্ট্রক্ষমতা ও নেতৃত্বের আসনে বসবে এবং সম্পদের অপব্যবহার করবে [১.৩.১০]।

বর্তমান যুগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (বিশেষ করে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা) এবং কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মরুচারী আরবদের মাধ্যমে গগনচুম্বী অট্টালিকা নির্মাণের যে প্রতিযোগিতা চলছে, অনেক গবেষক ও আলেম একেই উক্ত হাদীসের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে মনে করেন [১.১.১০, ১.২.২, ১.৩.৬, ১.৩.৯] {এ. আই.-এর উদ্ধৃতি সমাপ্ত}

আমি গুগল এ.আই.-লিঙ্কটি নিচে শেয়ার করলাম। সাথে হাদীসের আরবী উদ্ধৃতির লিঙ্কটিও শেয়ার করলাম। শেষ কথা হলো, বর্তমান আরবীয় রাজ্যগুলোর কর্ণধারবর্গ প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বংশধর বা উত্তরসূরী নয়। এরা জংলী ও দ্বীনবিরোধী গোষ্ঠী! এরা কোনোক্রমেই সুন্নী-সূফী নয়!
*সমাপ্ত*

এ. আই. লিঙ্ক: https://www.google.com/search?q=%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8+-+%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7+%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F+%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%B0%E0%A6%BE+%E0%A6%A7%E0%A6%A8%E0%A7%80+%E0%A6%93+%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82+%E0%A6%89%E0%A6%81%E0%A6%9A%E0%A7%81+%E0%A6%AD%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8+%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87+%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC+%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A5%A4&rlz=1C1KFKH_enBD1139BD1148&gs_lcrp=EgZjaHJvbWUyBggAEEUYOdIBCzEwNjk5MWowajE1qAIIsAIB8QWpg-Obv1ULy_EFqYPjm79VC8s&sourceid=chrome&ie=UTF-8&udm=50&fbs=ADc_l-YvsOTjOKSSZYD2NDRzvbZAb2y2FfCNBueOPN85cqbs4oysUjF5i_x3ov_zmvyKykq1ev748VAqfhm1InUObw9tw0ETz0XlBU2q8wxdUWNeTPgvW1G_B8jUFzO0nYn0PMtNI4Q7kdqLPYnfhP63V3zU9j6tbqB_vHF34os_kgsExC9_rAmdLyfQiAHcXjogoWuAfrRhfVMDaC8miba_Fzbsz5gJUfYXzRJ7Y9rykX8sKAKxjHuKTS2kfoXt3kzQpx0ZMZMQ&ved=2ahUKEwidvoCCjs2TAxXvUGwGHSAAHisQ0NsOegQIAxAB&aep=10&ntc=1&mstk=AUtExfAzR0gNKd3I-aOe1pqi-zYaC_z5FOGAlKP_MyBA7STa7_xfF3oS_W2dKg39FzOupZN4wYLTx1BNCPCi5zryJ4qgx4mHRYUGND73VIeCy2l1DoZifS9LArNi_NIZY3sKHiYdzKBccv7IKXUpq01s6QbrfPepT0au704&csuir=1&mtid=BevPaeORM6CJ4-EP2uqlqAo&fbclid=IwY2xjawQ8ylVleHRuA2FlbQIxMABicmlkETFxdDVia2ZhZ2VUWktIWDJUc3J0YwZhcHBfaWQQMjIyMDM5MTc4ODIwMDg5MgABHqUvJiUzH1idGbyBCSTCxZ7c527uI3gW2NwNqkwxAsTQ7Vjhc57YBj_9SZUN_aem_FF6R2s3V7yvyrGLS_dpXEg

বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শবে বরা’তের হালুয়া-রুটিতে এতো এলার্জি কেন?

-এডমিন

ছোটকাল থেকে দেখে এসেছি যে আমাদের মুসলমান সমাজের পূর্ববর্তী দুই প্রজন্ম শবে বরা’তে হালুয়া-রুটি বানাতেন এবং খেতেন। ওই সময় কাউকেই এর বিরুদ্ধে কোনো উচ্চবাচ্য করতে দেখি নি। আমি ’৬০ ও ’৭০’এর দশকের কথা বলছি। কিন্তু হাল-ফ্যাশনের কতিপয় মৌ-লোভী ও তাদের অনুসারী দল এটাকে ‘কুসংস্কার’ ও ’বিদ’আত’ (ধর্মে নতুন প্রচলন) বলে অপপ্রচার করছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। আমি এখানে সংক্ষেপে তাদের অপযুক্তির জবাব দেবো, ইনশা’আল্লাহ।

প্রথমেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইসলামী আলেম মরহূম ড: ইঊসুফ ক্বারাদাউয়ী সাহেবের ওয়েবসাইট থেকে এর শরঈ বিধান জেনে নেয়া যাক। তিনি বলেন:

كان أول مبدأ قرره الإسلام: أن الأصل فيما خلق الله من أشياء ومنافع، هو الحل والإباحة، ولا حرام إلا ما ورد نص صحيح صريح من الشارع بتحريمه، فإذا لم يكن النص صحيحا -كبعض الأحاديث الضعيفة- أو لم يكن صريحا في الدلالة على الحرمة، بقي الأمر على أصل الإباحة.

অর্থ: দ্বীন-ইসলামের প্রাথমিক মৌলনীতি হলো, আল্লাহতায়ালা তাবৎ যা কিছু (তথা বিষয়/বস্তু) সৃষ্টি করেছেন (দুনিয়ায়), তা (মানবের জন্যে) উপকারী; তাই তা হালাল (অনুমতিপ্রাপ্ত) ও মোবাহ (বৈধ); এবং শরীয়তের বিধানদাতা (আল্লাহর কুর’আন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ)-এর কাছ থেকে কোনো সুস্পষ্ট নস্/দলিল দ্বারা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ হওয়া ছাড়া কিছুই নিষিদ্ধ নয়। যদি ’নস্’টি সুস্পষ্ট না হয় - যথা কিছু দুর্বল হাদীস, অথবা নিষিদ্ধকরণের ইঙ্গিতের ক্ষেত্রে অস্পষ্ট দলিল - তাহলে বিষয়টি মূলতঃ জায়েয থাকে। [শাইখ ক্বারাদাউয়ী সাহেবের বিস্তারিত বক্তব্য-সম্বলিত ওয়েবসাইট লিঙ্ক মন্তব্য সেকশানে প্রদত্ত]

এখন প্রশ্ন হলো, হালুয়া-রুটি খাওয়া কি হারাম? ভ্রান্ত মৌ-লোভীচক্র এখানে অপকৌশল প্রয়োগ করে থাকে। তারা বলে, “না, তা খাওয়া জায়েয, তবে শবে বরা’তের রাতের সাথে সম্বন্ধ স্থাপন করে ইবাদত-বন্দেগীর সওয়াব/পুণ্য লাভের উদ্দেশ্যে তা খাওয়া ‘কুসংস্কার’ ও ‘বিদ’আত।’ আসলে এই সমস্যাটি তাদেরই বক্র অন্তরের, মুসলমান সমাজের কোনো দোষ এতে নিহিত নেই। কেননা কেউই এটাকে শবে বরা’তে পালনীয় ইবাদতের অংশ বিবেচনা করেন না। এটা তাঁরা করেন একমাত্র মানুষ ও প্রতিবেশীদের খাওয়ানোর উদ্দেশ্যেই। এই খাওয়ানোর নিয়্যত তথা সদুদ্দেশ্য আলাদা সওয়াব বা পুণ্যের ভাগীদার করে তাঁদের। ভ্রান্ত মৌ-লোভীদের মনের বক্রতা তাদের এ আপত্তি উত্থাপনে প্রমাণিত হয়, কেননা তারা মূল শবে বরা’ত পালনকে বাধা দেয়ার দুরভিসন্ধি নিয়েই এ আপত্তি তুলেছে। অথচ মানুষকে খাওয়ানোর পক্ষে অজস্র শরঈ দলিল আমাদের সামনে বিদ্যমান।
একইভাবে, শবে বরা’ত উপলক্ষে সন্ধ্যায় গোসল করা নিয়েও আপত্তির শেষ নেই। আবারো জবাব হলো, গোসল করা কি হারাম? প্রকৃতপক্ষে ভ্রান্তদের প্রথম টার্গেট ছিলো শবে বরা’তকে নিষিদ্ধ প্রমাণ করা। এ অসদুদ্দেশ্যে তারা শবে বরা’তের সমর্থনে বর্ণিত হাদীসগুলোকে সহীহ বা বিশুদ্ধ নয় বলে অপপ্রচারে মাঠে নেমেছিলো। কিন্তু এসব হাদীসের মধ্যে এমন বেশ কিছু আছে যেগুলো সহীহ, আর সেগুলো বাকি যয়ীফ/দুর্বল হাদীসগুলোকে সুদৃঢ় করেছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার এজেন্সী গ্রহণকারী এই ভ্রান্তপন্থী চক্রটি হক্কপন্থী উলামার জোরালো প্রতিরোধের মুখে তাদের মূল কাজে ব্যর্থ হয়ে এখন বিষয়টির আনুষঙ্গিক দিকগুলোর দিকে ঢিল ছুঁড়ছে! তাদের ষড়যন্ত্র দিবালোকের মতো পরিষ্কার! মুসলমান সমাজ তা যথাযথভাবে দেখতে না পেলে বদ-নসীবী তাঁদেরই ললাটে আঁকা হবে, আল্লাহ মাফ করুন (আমীন)! আমাদের কাজ ছিলো সতর্ক করা, এখানে তাই করলাম। আল্লাহ সবাইকে হেদায়াত দিন, আমীন।

জরুরি জ্ঞাতব্য

ইসলামের উসূলের কায়দা হলো, হারাম প্রমাণের জন্যই কুর'আন-হাদীসের দলিল জরুরি। কিন্তু যাঁরা কোনো বিষয় বা বস্তুকে জায়েয বলেন, তাঁদের দলিলের প্রয়োজন নেই। অতএব, হালুয়া-রুটি খাওয়া হারাম সেটার দলিল দেখাতে হবে! মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতি মনের সন্দেহ অথবা কারো অন্তরের অবস্থা কল্পনা করে বা তার সম্ভাবনার উপর শরীয়তের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না! উসূলের এ কায়দাটি কুরআন মজীদের সূরাহ বিভিন্ন আয়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত যা শাইখ ক্বারাদাউয়ীর উল্লেখিত ওয়েবসাইটে স্পষ্ট আরবীতে উদ্ধৃত হয়েছে - هُوَ ٱلَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَّا فِي ٱلأَرْضِ جَمِيعاً - অর্থ: তিনিই, যিনি তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন যা কিছু পৃথিবীতে রয়েছে [২/২৯]। অন্যত্র ঘোষিত হয়েছে - وَسَخَّرَ لَكُمْ مَّا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلأَرْضِ جَمِيعاً مِّنْهُ - অর্থ: এবং তোমাদের জন্যে কাজে লাগিয়েছেন যা কিছু আসমানসমূহে রয়েছে এবং যা কিছু জমিনে স্বীয় নির্দেশে [৪৫/১৩]। আরো ঘোষিত হয়েছে - أَلَمْ تَرَوْاْ أَنَّ ٱللَّهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَّا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً - অর্থ: তোমরা কি দেখো নি যে, আল্লাহ তোমাদের জন্যে কাজে নিয়োজিত করেছেন যা কিছু আসমানসমূহে ও জমিনে রয়েছে এবং তোমাদেরকে পূর্ণমাত্রায় দিয়েছেন আপন অনুগ্রহসমূহ, প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে [৩১/২০; নূরুল ইরফান]।
সমাপ্ত