লেখক: মওলানা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
হাটহাজারী, চট্টগ্রাম
(৪-৮-২০২৩)
[গবেষণামূলক লেখাটি লেখকের নিজস্ব। এডমিন এ লেখার সাথে যুক্ত নন। তবে সম্পাদনা করা হয়েছে - এডমিন।]
#ডক্টর_তাহিরুল কাদেরির একনিষ্ঠ অনুসারী শিয়াপন্থী #বাতেন ও হঠাৎ করে গজিয়ে উঠা #শিয়াল পণ্ডিতের ইজতিহাদ তথা ফাসাদাত দেখে সুন্নি ভাইদের আক্কেলগুড়ুম। তাবিয়ি শব্দের সঠিক সংজ্ঞা ও প্রয়োগ যে সমস্ত বদ-আকল ও কম-সমঝদার লোকের নাই তারা সন্মানিত সাহাবি ও তাবিয়িনদের সন্মানহানি করবে, এটাই স্বাভাবিক। কারণ তারা তাদের রুহানি পূর্বপুরুষ কুফার মেকি মহব্বতকারী কুফিদের কাছ থেকে ওয়ারিসসূত্রে "সাহাবা বিদ্বেষ"-এর মত জঘন্য ‘নেয়ামত’ লাভ করেছে। তাই তাদের প্রতিটি কথা, লেখা ও বক্তব্যে আপনি সাহাবায়ে কিরামের শানে কোন না কোনভাবে গোস্তাখি দেখতে পাবেন।
এবার আসুন স্ক্রিনশটে দুই গোস্তাখে সাহাবা-তাবিয়িনের কথার পর্যালোচনায়:
-----
#মিনহাজি বাতেনের দাবি- আটজন সাহাবি সাইয়্যিদুনা হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর হত্যায় জড়িত ছিলেন। বাতেনের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ থাকলো যে, সে যেন সহিহ সনদের মাধ্যমে আটজন সাহাবির হযরত হুসাইন হত্যায় জড়িত থাকার প্রমাণ মুসলিম ঐতিহাসিকদের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ থেকে প্রমাণ করে।
#শিয়াল পণ্ডিত বাতেনের দ্বিতীয় দাবি হলো- মালউন ইয়াযিদের সৈন্যবাহিনীতে ২২ হাজার সেনা তাবিয়ি ছিল। এতবড় গর্দভ মার্কা কথা এই পর্যন্ত কোন ইরানি শিয়াও বলেছে বলে আমাদের জানা নেই। বিগত চৌদ্দশত বৎসরের ইসলামের ইতিহাসে তো থাকার প্রশ্নই আসে না। অথচ হাজারো ইমাম, মুজতাহিদ ও ঐতিহাসিক কারবালার ঘটনা কমবেশি নিজেদের গ্রন্থে তুলে ধরছেন-কেউ কখনো এই ধরনের মস্তিষ্কবিকৃত দাবি করেন নি। তাবিয়ির সংজ্ঞা কি- এই কথা কি ইমাম, মুজতাহিদ ও ঐতিহাসিকগণ এই সমস্ত বদ আকিদাধারী জাহেলদের চেয়ে কম জানতেন?
#যদি মালউন ইয়াযিদের সেনারা তাবিয়ি হয়, তাহলে শিয়াল পণ্ডিতদের উসূল মুতাবিক মালউন ইয়াযিদ বড় তাবিয়ি। অথচ আহলে সুন্নাতের অধিকাংশ ইয়াযিদকে তাবিয়ি হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। বরং আহলে সুন্নাতের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ ইয়াযিদ ও তার সহযোগীদের লানত দিয়েছেন। যদি তারা তাবেয়ির সংজ্ঞার আওতায় হতো, তাহলে কোন ইমামের সেই দুঃসাহস কি ছিলো যে তাঁরা ওই সন্মানিত তাবিয়ি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমকে লানত করবেন, সহিহ হাদিস শরীফে আল্লাহর হাবিব ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম যাঁদেরকে জাহান্নাম স্পর্শ করবেনা বলে সুসংবাদ দিয়েছিলেন?
#আজ এই সাহাবি বিদ্বেষী জাহিলদের রুহানি আব্বা বেঈমান কুফিদের কিতাব থেকেই প্রমাণ করবো- মালউন ইয়াযিদের হুকুমে দুনিয়া লাভের জন্য বিক্রি হওয়া মেকি মহব্বতকারী কুফি শিয়ারাই সাইয়্যিদুনা হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে শহিদ করেছে।
------
"وکان جمیع من حضر مقتل حسین من العساکر وحاربه وتولی قتله من اھل الکوفة خاصة لم یحضرھم شامی۔"
[کتاب بحار الانوار ج ۱۰ ص ۲۳۱]
-ঐ সমস্ত লোক যারা হযরত হুসাইনের শাহাদতে অংশ নিয়েছে, উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তাঁকে শহিদ করেছে, তারা সবাই কুফার অধিবাসী ছিল।শামের (মানে সিরিয়ার) কোন লোক ঐ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। [ বিহারুল আনওয়ার]
"وتولی قتله من اھل الکوفة خاصة لم یحضرھم شامی۔"
[ مروج الذھب ]
- হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে একমাত্র কুফিরা (শিয়ারা) হত্যা করেছে। ওখানে কোন শামবাসী উপস্থিত ছিল না।
[মুরাওওয়াজুয যাহাব]
"لیس فیھم شامی ولا حجازی بل جمیعھم من اھل الکوفة۔"
[خلاصة المصائب ص ۲۰۱]
- হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর হত্যাকারীদের মধ্যে শাম ও হিজাযের কেউ ছিলেন না, বরং সবাই কুফার অধিবাসী ছিলো।
[খুলাসাতুল মাসায়িব]
"لما دخل علی بن الحسین الکوفة رای نساءھا یبکین ویصرخن فقال! ھٰؤلاء یبکین علینا فمن قتلنا؟ ای من قتلنا غیرھم م!
[تاریخ یعقوبی ج ۱ ص ۲۳۵]
- এরা যদি আমাদের জন্য কান্না করে, তাহলে আমাদেরকে শহিদ করলো কারা??
[তারিখে ইয়াকুবি- শিয়া মুজতাহিদ ও ঐতিহাসিক আহমদ বিন ইয়াকুব]
[احتجاج طبرسی ص ۱۵۸]
[ইহতিজাজে তাবরিসি]
#উপরোক্ত কথাগুলো কিছু শব্দের ভিন্নতায় শিয়াদের আরো গ্রন্থে উল্লেখ আছে, যা ইমাম যায়নুল আবেদিন রাদিয়াল্লাহু আনহু বেঈমান কুফাবাসীকে উদ্দেশ্যে করে বলেছিলেন। মানে আমাদেরকে কুফার শিয়ারাই শহিদ করেছে। যেমন-
-বিহারুল আনওয়ার- বাকের মজলিসি খন্ড ৫৫, পৃষ্ঠা৩৪
-----------