ব্লগ সংরক্ষাণাগার

শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

ফিরে দেখা আরব জাতিয়তাবাদের আত্মঘাত

 

-এডমিন।

আমাদের প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায়ী হজ্জ্বের ভাষণে বলেছিলেন - لا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ عَلَى أَعْجَمِيٍّ، وَلَا لِعَجَمِيٍّ عَلَى عَرَبِيٍّ، وَلَا لِأَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ وَلَا أَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ إِلَّا بِالتَّقْوَى - অনুবাদ: "আরবের ওপর অনারবের, অনারবের ওপর আরবের, সাদার ওপর কালোর বা কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) ভিত্তিতে (হবে)।" এটা তাঁর ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জ্বের খুতবার মূল অংশবিশেষ, যা বর্ণবাদ ও জাতিভেদ প্রথাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দেয়।

কিন্তু হায়! আরবীয় জাতিগোষ্ঠী মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী সম্পর্কে পুরোপুরি বিস্মৃত হয়ে ১৭৫০ খৃষ্টাব্দ সালে নজদ অঞ্চলের মুহাম্মদ ইবনে আবদিল ওয়াহহাবের মতো এক গণ্ডমূর্খের কথায় কর্ণপাত করে। অথচ এই ব্যক্তি হামফের নামের এক বৃটিশ গুপ্তচরের ধোঁকায় পড়ে ওহাবীবাদ প্রচার আরম্ভ করেছিলো (ওই একই বছর)। নজদ অঞ্চলের সৌদ গোত্র ওহাবী মতবাদকে বৃটিশের সহায়তায় পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং শেষমেশ আরবীয় জাতিয়তাবাদের ছদ্মাবরণে বৃটিশ গুপ্তচর কর্নেল লরেন্সের ষড়যন্ত্রে ও বৃটিশ বাহিনীর সহযোগিতায় উসমানীয় তুর্কী শাসকদের আরব অঞ্চল থেকে উৎখাত করে (১৯৩২ সাল)। এ এক করুণ ইতিহাস। কেননা তুর্কী শাসন ছিলো খাঁটি সুন্নী-সূফী মতাদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। আরবীয় জনগণের আত্মঘাতী এ ভ্রমের কারণে সুন্নী শাসনের অবসান হয় এবং এর পরপরই বৃটিশ বাহিনী গোটা আরব অঞ্চলটিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে পরিণত করে। বস্তুতঃ তারা এভাবেই মধ্যযুগে হেরে যাওয়া ক্রূসেইডগুলোর বদলা নেয়, আর আরবীয় জনগোষ্ঠী নিজেদের করুণ পরিণতি চেয়ে চেয়ে দেখে!

আজ ১০০ বছর পরেও ওই ভুল সিদ্ধান্তের কুফল আরবীয়দেরকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। বর্তমান ইরান যুদ্ধে আরবীয়দের আত্মোপলুব্ধি হলে হয়তো তারা এ রাহুগ্রাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, ইনশা’আল্লাহ। কাঙ্ক্ষিত ইমাম মাহদী (আলাইহিস্ সালাম)-এর শুভাগমন হলে অবশ্যঅবশ্য দিন আবার ফিরবে, মওলার মর্জিতে।
*সমাপ্ত*

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

ইসলামী স্বর্ণযুগে আরব ও বর্তমান আরব


-এডমিন।

এ বিষয়ে সংক্ষেপে বলবো, প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সোনালী যুগে এবং তৎপরবর্তী পুণ্যবান পূর্বসূরী (সালাফ) ও উত্তরসূরী (খালাফ)-দের হীরণ্ময় অতীতকালে ইসলামের পরম বিকাশ হয়েছিলো। মুসলিম শাসকবৃন্দও সামাজিক ন্যায়বিচার/ইনসাফ ও নিয়ম-নীতি অনুসারে রাজ্য শাসন করেছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামতের আলামত/লক্ষণ বর্ণনা প্রসঙ্গে যা যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তার সবই বর্তমানে প্রকাশিত হয়েছে। গুগল এ.আই.-কে আমি এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। উত্তর এখানে শেয়ার করা হলো:

আপনার উল্লেখিত বিষয়টি মূলত কিয়ামতের একটি উল্লেখযোগ্য আলামত বা চিহ্ন হিসেবে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত ‘হাদীসে জিবরাঈল’-এ এই বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে [১.৩.৫, ১.৪.৪]।

রাসূলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের নিদর্শন সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন:

“...যখন দেখবে যে, নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, দরিদ্র মেষপালকগণ সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে।” [১.২.২, ১.৩.১, ১.৪.২]

এই হাদীসটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

*হাদীসের উৎস ও তথ্য*

প্রধান উৎস: এই বর্ণনাটি সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ১), সহীহ বুখারী, সুনান ইবনে মাজাহ এবং মুসনাদে আহমাদ-সহ বিভিন্ন বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে [১.২.২, ১.৩.১, ১.৩.১০, ১.৪.৪]।

বর্ণনাকারী: প্রধানত হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এবং হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই হাদীসটি বর্ণিত [১.৩.২, ১.৩.৭, ১.৪.৯]।
*হাদীসটির তাৎপর্য*

১. আকস্মিক সচ্ছলতা: এখানে ‘নগ্নপদ ও বস্ত্রহীন রাখাল’ বলতে আরবের মরুচারী বেদুইনদের বোঝানো হয়েছে, যাদের এক সময় জীবনধারণের সামান্য সরঞ্জামও ছিল না [১.৩.৫, ১.৩.১০, ১.৩.১৩]।

২. উচ্চ ভবন নির্মাণের প্রতিযোগিতা: হাদীসে বলা হয়েছে যে, এই দরিদ্র রাখালরা হঠাৎ প্রচুর সম্পদের মালিক হবে এবং প্রয়োজনের তুলনায় কেবল নিজেদের বড়ত্ব প্রকাশের জন্য সুউচ্চ ভবন তৈরির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে [১.১.১০, ১.৩.৫, ১.৩.৬]।

৩. নেতৃত্ব ও ক্ষমতা: ইমাম কুরতুবী (রহ.)-এর মতো ব্যাখ্যাকারদের মতে, এর অর্থ হলো—সমাজের নিম্নস্তরের বা অযোগ্য লোকেরা রাষ্ট্রক্ষমতা ও নেতৃত্বের আসনে বসবে এবং সম্পদের অপব্যবহার করবে [১.৩.১০]।

বর্তমান যুগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (বিশেষ করে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা) এবং কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মরুচারী আরবদের মাধ্যমে গগনচুম্বী অট্টালিকা নির্মাণের যে প্রতিযোগিতা চলছে, অনেক গবেষক ও আলেম একেই উক্ত হাদীসের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে মনে করেন [১.১.১০, ১.২.২, ১.৩.৬, ১.৩.৯] {এ. আই.-এর উদ্ধৃতি সমাপ্ত}

আমি গুগল এ.আই.-লিঙ্কটি নিচে শেয়ার করলাম। সাথে হাদীসের আরবী উদ্ধৃতির লিঙ্কটিও শেয়ার করলাম। শেষ কথা হলো, বর্তমান আরবীয় রাজ্যগুলোর কর্ণধারবর্গ প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বংশধর বা উত্তরসূরী নয়। এরা জংলী ও দ্বীনবিরোধী গোষ্ঠী! এরা কোনোক্রমেই সুন্নী-সূফী নয়!
*সমাপ্ত*

এ. আই. লিঙ্ক: https://www.google.com/search?q=%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8+-+%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7+%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F+%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%B0%E0%A6%BE+%E0%A6%A7%E0%A6%A8%E0%A7%80+%E0%A6%93+%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82+%E0%A6%89%E0%A6%81%E0%A6%9A%E0%A7%81+%E0%A6%AD%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8+%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87+%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC+%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A5%A4&rlz=1C1KFKH_enBD1139BD1148&gs_lcrp=EgZjaHJvbWUyBggAEEUYOdIBCzEwNjk5MWowajE1qAIIsAIB8QWpg-Obv1ULy_EFqYPjm79VC8s&sourceid=chrome&ie=UTF-8&udm=50&fbs=ADc_l-YvsOTjOKSSZYD2NDRzvbZAb2y2FfCNBueOPN85cqbs4oysUjF5i_x3ov_zmvyKykq1ev748VAqfhm1InUObw9tw0ETz0XlBU2q8wxdUWNeTPgvW1G_B8jUFzO0nYn0PMtNI4Q7kdqLPYnfhP63V3zU9j6tbqB_vHF34os_kgsExC9_rAmdLyfQiAHcXjogoWuAfrRhfVMDaC8miba_Fzbsz5gJUfYXzRJ7Y9rykX8sKAKxjHuKTS2kfoXt3kzQpx0ZMZMQ&ved=2ahUKEwidvoCCjs2TAxXvUGwGHSAAHisQ0NsOegQIAxAB&aep=10&ntc=1&mstk=AUtExfAzR0gNKd3I-aOe1pqi-zYaC_z5FOGAlKP_MyBA7STa7_xfF3oS_W2dKg39FzOupZN4wYLTx1BNCPCi5zryJ4qgx4mHRYUGND73VIeCy2l1DoZifS9LArNi_NIZY3sKHiYdzKBccv7IKXUpq01s6QbrfPepT0au704&csuir=1&mtid=BevPaeORM6CJ4-EP2uqlqAo&fbclid=IwY2xjawQ8ylVleHRuA2FlbQIxMABicmlkETFxdDVia2ZhZ2VUWktIWDJUc3J0YwZhcHBfaWQQMjIyMDM5MTc4ODIwMDg5MgABHqUvJiUzH1idGbyBCSTCxZ7c527uI3gW2NwNqkwxAsTQ7Vjhc57YBj_9SZUN_aem_FF6R2s3V7yvyrGLS_dpXEg