-এডমিন।
এ বিষয়ে সংক্ষেপে বলবো, প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সোনালী যুগে এবং তৎপরবর্তী পুণ্যবান পূর্বসূরী (সালাফ) ও উত্তরসূরী (খালাফ)-দের হীরণ্ময় অতীতকালে ইসলামের পরম বিকাশ হয়েছিলো। মুসলিম শাসকবৃন্দও সামাজিক ন্যায়বিচার/ইনসাফ ও নিয়ম-নীতি অনুসারে রাজ্য শাসন করেছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামতের আলামত/লক্ষণ বর্ণনা প্রসঙ্গে যা যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তার সবই বর্তমানে প্রকাশিত হয়েছে। গুগল এ.আই.-কে আমি এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। উত্তর এখানে শেয়ার করা হলো:
আপনার উল্লেখিত বিষয়টি মূলত কিয়ামতের একটি উল্লেখযোগ্য আলামত বা চিহ্ন হিসেবে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত ‘হাদীসে জিবরাঈল’-এ এই বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে [১.৩.৫, ১.৪.৪]।
রাসূলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের নিদর্শন সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন:
“...যখন দেখবে যে, নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, দরিদ্র মেষপালকগণ সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে।” [১.২.২, ১.৩.১, ১.৪.২]
এই হাদীসটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
*হাদীসের উৎস ও তথ্য*
প্রধান উৎস: এই বর্ণনাটি সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ১), সহীহ বুখারী, সুনান ইবনে মাজাহ এবং মুসনাদে আহমাদ-সহ বিভিন্ন বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে [১.২.২, ১.৩.১, ১.৩.১০, ১.৪.৪]।
বর্ণনাকারী: প্রধানত হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এবং হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই হাদীসটি বর্ণিত [১.৩.২, ১.৩.৭, ১.৪.৯]।
*হাদীসটির তাৎপর্য*
১. আকস্মিক সচ্ছলতা: এখানে ‘নগ্নপদ ও বস্ত্রহীন রাখাল’ বলতে আরবের মরুচারী বেদুইনদের বোঝানো হয়েছে, যাদের এক সময় জীবনধারণের সামান্য সরঞ্জামও ছিল না [১.৩.৫, ১.৩.১০, ১.৩.১৩]।
২. উচ্চ ভবন নির্মাণের প্রতিযোগিতা: হাদীসে বলা হয়েছে যে, এই দরিদ্র রাখালরা হঠাৎ প্রচুর সম্পদের মালিক হবে এবং প্রয়োজনের তুলনায় কেবল নিজেদের বড়ত্ব প্রকাশের জন্য সুউচ্চ ভবন তৈরির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে [১.১.১০, ১.৩.৫, ১.৩.৬]।
৩. নেতৃত্ব ও ক্ষমতা: ইমাম কুরতুবী (রহ.)-এর মতো ব্যাখ্যাকারদের মতে, এর অর্থ হলো—সমাজের নিম্নস্তরের বা অযোগ্য লোকেরা রাষ্ট্রক্ষমতা ও নেতৃত্বের আসনে বসবে এবং সম্পদের অপব্যবহার করবে [১.৩.১০]।
বর্তমান যুগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (বিশেষ করে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা) এবং কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মরুচারী আরবদের মাধ্যমে গগনচুম্বী অট্টালিকা নির্মাণের যে প্রতিযোগিতা চলছে, অনেক গবেষক ও আলেম একেই উক্ত হাদীসের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে মনে করেন [১.১.১০, ১.২.২, ১.৩.৬, ১.৩.৯] {এ. আই.-এর উদ্ধৃতি সমাপ্ত}
আমি গুগল এ.আই.-লিঙ্কটি নিচে শেয়ার করলাম। সাথে হাদীসের আরবী উদ্ধৃতির লিঙ্কটিও শেয়ার করলাম। শেষ কথা হলো, বর্তমান আরবীয় রাজ্যগুলোর কর্ণধারবর্গ প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বংশধর বা উত্তরসূরী নয়। এরা জংলী ও দ্বীনবিরোধী গোষ্ঠী! এরা কোনোক্রমেই সুন্নী-সূফী নয়!
*সমাপ্ত*
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন