ব্লগ সংরক্ষাণাগার

বুধবার, ১৫ মে, ২০২৪

*রাসূল (ﷺ) কখন থেকে রাসূল?*


-এডমিন
হায়, মুসলমান সমাজের এ কী দুরবস্থা! অনলাইনে প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যথাসাধ্য হেয় করার জন্যে কতিপয় আলেম-উলামার কী প্রাণান্তকর অপপ্রয়াস! শিরোনামের বিষয়টি এখন অনলাইনে ভাইরাল এ মর্মে যে, প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রকাশ্য হায়াতে জিন্দেগী ৪০ বছর হওয়ার আগে তিনি রাসূল বা নবী ছিলেন না। সুন্নী আলেম-উলামা শরঈ দলিল পেশ করেছেন যে তিনি তা সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই ছিলেন। আমি তাঁদের পেশকৃত দলিল নিয়ে এ আলোচনা করবো না, বরং আরেকটি দলিল এখানে পেশ করবো। অতএব, কথা না বাড়িয়ে দলিলে যাওয়া যাক।
*হাদীসের আরবী ইবারত*
حدثنا أبو سعيد عمرو بن محمد بن منصور العدل حدثنا أبو الحسن محمد بن إسحاق بن إبراهيم الحنظلي حدثنا أبو الحارث عبد الله بن مسلم الفهري حدثنا إسماعيل بن مسلمة أنبأ عبد الرحمن بن زيد بن أسلم عن أبيه عن جده عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما اقترف آدم الخطيئة قال يا رب أسألك بحق محمد لما غفرت لي فقال الله يا آدم وكيف عرفت محمدا ولم أخلقه قال يا رب لأنك لما خلقتني بيدك ونفخت في من روحك رفعت رأسي فرأيت على قوائم العرش مكتوبا لا إله إلا الله محمد رسول الله فعلمت أنك لم تضف إلى اسمك إلا أحب الخلق إليك فقال الله صدقت يا آدم إنه لأحب الخلق إلي ادعني بحقه فقد غفرت لك ولولا محمد ما خلقتك .
هذا حديث صحيح الإسناد
সারমর্ম: হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “যখন আদম (আলাইহিস সালাম) গন্দম খাওয়ার কাজটি সংঘটন করেন, তখন তিনি আরয করেন: ‘হে আমার প্রভু! আমি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)-এর হক্ব তথা অধিকারের দোহাই দিয়ে আপনার কাছে পানাহ্ বা ক্ষমা চাই।’ আল্লাহ এমতাবস্থায় বলেন: ‘ওহে আদম (আ:)! তুমি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে কীভাবে জানলে, যাঁকে আমি এখনো সৃষ্টি করিনি?’ পয়গম্বর আদম (আ:) উত্তর দেন: ‘হে আমার প্রভু! আপনি যখন আমায় সৃষ্টি করেন এবং আমার মাঝে রূহ ফুঁকে দেন, তখন আমি আমার মাথা তুলে দেখতে পাই (উচ্চ) আরশের সীমায় লেখা আছে - লা’ ইলা’হা ইল্লা’ল্লা’হু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লা’হ। আমি বুঝতে পারি, আপনি আপনার সবচেয়ে প্রিয় কারো নাম (মোবারক)-ই আপনার পবিত্র নামের পাশে স্থাপন করতে পারেন।’ অতঃপর আল্লাহতা’লা বলেন, ‘ওহে আদম (আ:)! আমি তোমায় ক্ষমা করলাম; মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) না হলে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না’।”
وأقر صحته السبكي في شفاء السقام ص 120 ، والسمهودي في وفاء الوفاء ص 419 ، والقسطلاني في المواهب اللدنية ، والزرقاني في شرحه 1 ص 44 ، والعزامي في فرقان القرآن ص 117 .
এই হাদীসটি আল-হা’কিম বর্ণনা করেন এবং তিনি এটাকে সহীহ বলেছেন [আল-মুসতাদরাক, ২:৬১৫]। এছাড়া একে সহীহ বলেছেন ইমাম হাফেয আল-সৈয়ূতী (রহ:) নিজ ‘খাসা’ইস’ পুস্তকে এবং জাল হাদীসের বর্ণনা পরিহারকারী ইমাম বায়হাক্বী (রহ:) আপন ‘দালা’য়েল আল-নুবুওয়্যা’ গ্রন্থের ভূমিকায়। এ হাদীসকে সহীহ ঘোষণা করেছেন ইমাম ক্বসতলা’নী (রহ:) তাঁর ‘আল-মাওয়া’হিবুল লাদুনিয়া’ বইয়ে এবং যুরক্বা’নী মালেকী নিজের ‘শরহে মাওয়া’হিব’ পুস্তকে। এছাড়া একে সহীহ বলেছেন ইমাম তক্বীউদ্দীন সুবকী তাঁর ‘শেফাউস সেক্বা’ম বইয়ে। [শাইখ মুহাম্মদ আলূভী মালিকী হাসানী (রহ.) কৃত ‘সংশোধনীয় ভ্রান্ত ধারণাসমূহ]
ইবনে তাইমিয়া, আলবানী, মাদখালী গং এই হাদীসটিকে জাল/দুর্বল প্রমাণ করতে চাইলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাইখ হিশাম কাব্বানী নক্বশবন্দী সাহেব তাদেরকে একটি নাতিদীর্ঘ লেখায় রদ করেছেন, যা পরে কোনো এক সময়ে অনুবাদ করে দেবো, ইনশা’আল্লাহ। লিঙ্ক: https://docs.google.com/document/d/1J3jwbJZ7MYjQSBu4sNio4d8UfbyVJoYs6SNv_NeLqG0/edit?usp=sharing
*লক্ষ্য করুন*
আরশের সীমায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (ﷺ) মর্মে কলেমা-বাক্যটি লেখা ছিলো। এতে বোঝা যায়, প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই রাসূল ছিলেন। আল্লাহর কী মহিমা! শরঈ দলিলেই বাতীলদের রদ!
*সমাপ্ত*

See insights and ads
All reactions:
Naimul Ahsan, Musaheb Uddin Baktiar and 77 others

বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৩

বাহ্ বাহ্, শিয়াদের জ্ঞানের বহর দেখো!

 

তাবেঈন হলেন সেই (পরবর্তী) মুসলিম প্রজন্ম যাঁরা প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবা (রা.)-বৃন্দকে অনুসরণ (তাবেদারী) করেছেন (তাঁরই সাক্ষাৎ না পেয়ে) এবং এভাবে (ধর্মীয়) শিক্ষা পরোক্ষভাবে [সাহাবা (রা.)-বৃন্দের মাধ্যমে] প্রাপ্ত হয়েছেন। - উইকিপিডিয়া। লিঙ্ক: https://en.wikipedia.org/wiki/Tabi%27un
এজিদী সেনারা কি কারবালার বিষয়টি সাহাবা কেরাম (রা.) থেকে শিক্ষা করেছিলো? তাঁদের (রা.) প্রতি কতো বড় অপবাদ এই সাহাবা-বিদ্বেষী শিয়াদের!



মঙ্গলবার, ১ আগস্ট, ২০২৩

গাদীরে খুম: শিয়া অপযুক্তির খণ্ডন


-এডমিন

আমার নিয়মিত অনুবাদগুলোতে ফিরবো ভেবেছিলাম, কিন্তু ফেইসবুকে শিয়া গোষ্ঠী আমাদের প্রচারে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে বারবার অপযুক্তি পেশ করছে। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে ২ দিন আগে গণ্ডমূর্খদের কথিত একটি ‘ঈদে গাদীর’ অনুষ্ঠানে ২-৩ জন নারী-পুরুষ আবোল-তাবোল বকেছিলো। সুইডেনপ্রবাসী ড: সাহেব ওই মূর্খদের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, গাদীরে খুম সুন্নীদের, অজ্ঞ শিয়াদের হাতে এটিকে ছেড়ে দিয়েছেন সুন্নীরা। এরই ফলশ্রুতিতে নাকি এসব মূর্খ লোক কথা বলার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। হায় রে যুক্তি! আমি নিচে আমার খণ্ডনমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করছি।

প্রথমতঃ গাদীরে খুম দিবসের বাহানায় যে শিয়া-চক্রই ‘ঈদে গাদীর’ পালন করে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তা আমি আমার লেখনীতে স্পষ্ট করেছি। আমি ১৯৭৩ সাল থেকে ধর্মীয় বইপত্র পড়া আরম্ভ করেছিলাম। সে সময় হতে (মানে বিগত ৫০ বছরে) দেশের কোথাও সুন্নী মুসলমানদের দ্বারা গাদীরে খুম মাহফিল অনুষ্ঠিত হতে আমি প্রত্যক্ষ করিনি। ইমামবাড়ার কথা বাদ দিন। ওইখানে মুষ্টিমেয় কিছু উর্দূভাষী লোক শিয়াবাদ চর্চা করতেন; আজো করেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, বড় বড় সুন্নী আলেম-উলামা কেউই গাদীরে খুম দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠান করতেন না। যেসব দরবারের আওলাদ এখন এটির প্রসারে কোমর বেঁধে নেমেছেন, তাঁদের পুতঃপবিত্র পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে (১০০ বছর আগেও) এর সপক্ষে একটি নজিরও তাঁরা দেখাতে পারবেন কি না সন্দেহ! এই অপসংস্কৃতি সুন্নীদের নয়, বরং ইরানী শিয়াদের দুরভিসন্ধি। অতএব, যে বা যারা এটির প্রসারে উদ্যোগ নেয়, ফেইসবুকে এর পক্ষে পোষ্ট দেয়, তাদেরকে এর ছত্রছায়ায় ওই সব মূর্খদের উচ্চারিত আবোল-তাবোল কথার দায়ভার বহন করতে হবে!
দ্বিতীয়তঃ সত্যের কল বাতাসে নড়ে। ফেইসবুকে শিয়া মতবাদের প্রচার যে চলমান তা স্বীকার করেছেন আজহারী মৌ-লোভী। সুইডেনপ্রবাসী ড: সাহেবকে প্রদত্ত এক মন্তব্যে তিনি তাঁকেও দোষারোপ করেছেন। অথচ তাঁরা সবাই একই দোষে দুষ্ট। দেখুন তাঁর মন্তব্যের স্ক্রীনশট -



বুধবার, ৫ জুলাই, ২০২৩

ছুপা/গোপন শিয়ার অপকৌশল


-এডমিন।

আজ অনলাইনে সক্রিয় আরেক সন্দেহভাজন সম্পর্কে আলোচনা করবো। সত্য তেতো, কিন্তু জ্ঞানের খাতিরে বলতে হয়। আমি যখন ২০১৯ সালের শেষভাগে ফেইসবুকে ‘সুন্নী দৃষ্টিকোণ হতে গাদীরে খুম-সম্পর্কিত হাদীসের বিশ্লেষণ’ শীর্ষক বইটি ধারাবাহিক পোষ্টে প্রকাশ আরম্ভ করি, তখন এই আজহারী মৌ-লোভী ও তাঁর সহযোগীরা আমার একটি প্রকাশিত শিয়া-বিরোধী বইয়ের বিরুদ্ধে স্ক্রীনশট ধোঁকাবাজিতে লিপ্ত হন। এই মৌ-লোভী আমার মেসেঞ্জার বক্সে এসে আমীরে মু’য়াবিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপারে কাফফে লিসান তথা নিশ্চুপ/সুকুত থাকতে বলেন (নোট: আমীরে মুয়াবিয়া রা.-এর পক্ষে জবাব বইটির অনুবাদ তখন আরম্ভ হয়েছিলো)। বস্তুতঃ নিচের (২য়) স্ক্রীনশটেও ওই সাহাবী (রা.) সম্পর্কে তাঁর এলার্জি দৃশ্যমান। অথচ কাফফে লিসান শুধু সাহাবা (রা.)-বৃন্দের মধ্যকার মতভেদের ক্ষেত্রেই প্রয়োগযোগ্য; তাঁদের ফযীলত বর্ণনার ক্ষেত্রে নয়। এ ব্যাপারে জানতে উপাধ্যক্ষ মওলানা এ,কে,এম, ফজলুল হক সাহেবের এতদসংক্রান্ত আলোচনার সিরিজ ভিডিওগুলো দেখার বিনীত অনুরোধ জানাই।
নিচের ২য় স্ক্রীনশটে মৌ-লোভী আজহারী দাবি করেছেন কোনো সুন্নী ইমাম বিগত ইসলামী ইতিহাসে আমীরে মু’য়াবিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর শান-মান প্রকাশক অনুষ্ঠান করেননি। অথচ হাদীসের ইমামবৃন্দ (রহ.) তাঁর ফযীলত বর্ণনায় নিজেদের হাদীসগ্রন্থে আলাদা আলাদা অধ্যায় রচনা করেছেন। এটাই তো (শরঈ) ফাউন্ডেশন তথা ভিত্তি রচনা করেছে। ধর্মীয় বইয়ে প্রশংসা করতে পারলে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কেন নয়? কেন এই এলার্জি? এটা শিয়ার আলামত নয় কি?
আজহারী মৌ-লোভী ওই শিয়া আলামত ছুপাবার তথা লুকোবার অসৎ উদ্দেশ্যে ঈদে গাদীর শব্দের মধ্যে ঈদ শব্দটি বাদ দিতে চান। এটা স্রেফ তাকিয়াবাজি বা ধোঁকাবাজি! সুন্নী মুসলমান সমাজকে ধাপ্পা দেয়ার শয়তানী ফন্দি! আমি ইতিপূর্বে একটি পোষ্টে বলেছিলাম, অনলাইনে অচেনা কারো কথায় বিশ্বাস করবেন না। সুন্নী আলেম-উলামা যাঁদেরকে ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে বিশ্বস্ত বলে চেনেন-জানেন, শুধু তাঁদের ধর্মীয় পরামর্শই গ্রহণ করবেন। কেননা আজকাল মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে এজেন্ডাধারী সেবাদাস অনেক মৌ-লোভীর আবির্ভাব ঘটছে। এরা ইরানী অথবা সৌদি উটের দুধ ও দুম্বার গোস্তের (মানে পেট্রো-ডলারের) কারবারি; শিয়া মোত’আ ললনাদের সরবরাহকারী! অতএব, সাবধান! এসব ঈমান হরণকারী বদমাইশ লোকের চক্রান্তের জালে আটকা পড়বেন না।
শিয়া ঈদে গাদীর নিয়ে যেহেতু অনেক লেখালেখি চলছে, সেহেতু এ বিষয়ে এখানে আর লিখলাম না। আমার এতদসংক্রান্ত পোষ্টগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখুন। ধন্যবাদ।


*সমাপ্ত*

‘আহলে বাইত (রা.) ও আসহাব (রা.)-বৃন্দের প্রতি ভক্তিতে মুক্তি’ শীর্ষক বই

 

-এডমিন

শিরোনামে উল্লেখিত বইটি নিয়ে অনলাইনে সক্রিয় শিয়াচক্র ২০১৯ সাল থেকে হৈচৈ করছে। বইটির অনুবাদক আমি অধম হলেও প্রকাশক সাঞ্জেরী পাবলিকেশনের মওলানা মুহাম্মদ আবূ তৈয়ব চৌধুরী। এতে সম্পাদনা করেন মওলানা এ,এ, জামেউল আখতার চৌধুরী ও সাঞ্জেরী পাবলিকেশনের সুযোগ্য সম্পাদক প্যানেলের আলেম-উলামা। বইটি প্রকাশ হয় চট্টগ্রাম থেকে ২০১৭ সালের শেষভাগে।
শিয়াচক্র ফেইসবুকে স্ক্রীনশট ধোঁকাবাজি দ্বারা এ বইয়ের বিরুদ্ধে আহলে বাইত (রা.)-এর প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশের অভিযোগ উত্থাপন করেছে। অথচ এতে কেবল ইতিহাসের রেফারেন্স-ই পেশ করা হয়েছিলো। বস্তুতঃ এগুলো কোনো ফতোয়া ছিলো না; শিয়া ও দেওবন্দীদের ইতিহাস বই হতে রেফারেন্স ছিলো যা নিয়ে শিয়াচক্র হৈচৈ বাধিয়েছে।
সাঞ্জেরী পাবলিকেশনের সম্পাদনা পর্ষদের প্রধান মওলানা এ,এ, জামেউল আখতার চৌধুরী শিয়া গোষ্ঠীর অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে তাঁর ফেইসবুক আইডি হতে আরেকজনের মন্তব্য সেকশনে নিজের দায় এড়িয়ে বইটির সম্পাদনা দেখেননি বলে মন্তব্য করেন। অথচ তাঁর নাম বইটিতে সম্পাদক হিসেবে শোভা পাচ্ছে।
অতএব, এ অভিযোগের জবাবে আমার বক্তব্য হলো, প্রকাশক আবূ তৈয়ব চৌধুরী ও তাঁর সম্পাদনা পর্ষদ দীর্ঘদিন যাবৎ এ কাজে জড়িত ছিলেন। তাঁরা সবাই জবরদস্ত সুন্নী আলেম। আমি বইটি অনুবাদ করে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম আর তাঁরা এটাকে সম্পাদনা করেছিলেন। আমি বইটিকে চূড়ান্ত রূপদানের দায়িত্ব তাঁদের কাঁধেই ন্যস্ত করেছিলাম। অতঃপর কেউ শত্রুদের অনৈতিক চাপে পড়ে নিজ দায়িত্ব পালনের কথা অস্বীকার করলে তাঁর কর্মকাণ্ড স্ববিরোধী বলেই প্রমাণিত হবে। মওলানা জামেউল আখতার চৌধুরী যদি সত্যিসত্যি সম্পাদনায় জড়িত না থাকেন তাহলে তাঁর নাম কেন বইয়ে সম্পাদক হিসেবে শোভা পাচ্ছে? তিনি এর বিরুদ্ধে কী কী আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন? কোথায় কোন্ কোর্টে প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন? ফেইসবুকে মন্তব্য করলেই দায়িত্ব খালাস হবে বলে মনে করেন কি?

শেষ কথা

আসলে আমি বইটির অনুবাদক মাত্র। চূড়ান্ত রূপদান করেন সাঞ্জেরী পাবলিকেশনের সুযোগ্য আলেম-উলামার সম্পাদনা পর্ষদ। কিন্তু শিয়াচক্র মূল বিদেশি লেখক ও সম্পাদকমণ্ডলীকে দোষারোপ না করে আমাকেই অর্থাৎ বঙ্গানুবাদককেই ফেইসবুকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে চলেছে। এর কারণ সহজে অনুমেয়। আমি মহাভ্রান্ত শিয়া মতবাদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছি। এটাই প্রকৃত ঘটনা। বিশেষ করে আমি যখন শিয়া মতবাদের খণ্ডনে কোনো আন্তর্জাতিক আলেমের লেখা বই অনলাইনে অনুবাদ আরম্ভ করি, তৎক্ষণাৎ তারা এ কাজে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
May be an image of text



মঙ্গলবার, ৪ জুলাই, ২০২৩

হায় রে মুসলমান, এজেন্ডার তলে গেছে রসাতলে!

 

-এডমিন

এবার আরেকটি ডেলিভারী ইরানপন্থী জনৈক মৌ-লোভীর (স্ক্রীনশট দেখুন)। তিনি হযরত আলী (কার্রামাল্লাহু ওয়াজহাহু)-এর মওলা-বিষয়ক বর্ণনাসমূহের সূত্রগুলোকে প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মীলাদুন্নবী (দ.) ১২ তারিখ হওয়ার বর্ণনার চেয়েও বিশ্বস্ত বলে মনে করেন। আরে, ঝর্নার জলপ্রবাহের উৎস আগে, না শাখা-প্রশাখা আগে? এজেন্ডার তলে গেছে সব রসাতলে!

অতএব আসুন, আমার অনূদিত ‘মীলাদুন্নবী (দ.)-এর প্রামাণ্য দলিল’ শীর্ষক বইটি হতে ইমামবৃন্দের বিশুদ্ধ সূত্র বর্ণনা করা যাক [৬০-৬৩ পৃষ্ঠা, সনজেরী পাবলিকেশন, ২০১৭]।

১২ই রবিউল আউয়াল: মীলাদুন্নবী (দ:)-এর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তারিখ

কেউ কেউ দাবি করেন যে মীলাদুন্নবী (দ:)-এর প্রকৃত তারিখ জ্ঞাত নয়, আর তাই ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে ঈদে মীলাদুন্নবী (দ:) উদযাপনের কোনো অবকাশ-ই নাকি নেই।

বারো রবিউল আউয়াল তারিখ মীলাদ-দিবস হিসেবে কেবল প্রাথমিক যুগের বুযূর্গানে দ্বীনের কাছেই গৃহীত নয়, এটি সমগ্র ইসলামী বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারগুলো কর্তৃক স্বীকৃত (মীলাদুন্নবীর) দিনও। এই দিনটি প্রায় ২ ডজন দেশে রাষ্ট্রীয় ছুটি হিসেবে পালিত হয়; ইরান ছাড়া অন্যান্য সকল রাষ্ট্র ১২ রবিউল আউয়াল শরীফকেই মীলাদুন্নবী (দ:) মানে। ইরান ১৭ তারিখে তা পালন করে, কেননা ওই তারিখ ইমাম জা’ফর সাদেক (রহ:)-এর জন্মদিনের সাথে মিলে যায়। [এডমিনের নোট: লক্ষণীয় যে, ইরান এই ১২ তারিখকে মানে না; তাই তাদের পক্ষের এজেন্ডাওয়ালাও মানে না!]

মীলাদুন্নবী (দ:)-এর সঠিক তারিখের ব্যাপারে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদদের অভিমত
১. ইমাম ইবনে এসহাক (৮৫-১৫১ হিজরী): ১২ই রবিউল আউয়াল, ‘আম-উল-ফীল’ (হস্তীর বছর)। [ইবনে জওযী কৃত ’আল-ওয়াফা’, ৮৭ পৃষ্ঠা]

২. আল্লামা ইবনে হেশাম (২১৩ হিজরী): সোমবার, ১২ই রবিউল আউয়াল, হস্তীর বছর। [ইবনে হেশাম প্রণীত ‘আস্ সীরাতুন্ নববীয়্যা’, ১ম খণ্ড, ১৫৮ পৃষ্ঠা]

৩. ইমাম ইবনে জারীর তাবারী (২২৪-৩১০ হিজরী): সোমবার, ১২ই রবিউল আউয়াল, হস্তীর বছর। [তারিখুল উমাম ওয়াল মুলূক, ২য় খণ্ড, ১২৫ পৃষ্ঠা]

৪. আল্লামা আবুল হাসান আলী বিন মোহাম্মদ আল-মাওয়ার্দী (৩৭০-৪৮০ হিজরী): ‘আসহাবে ফীল’ ঘটনার ৫০ দিন ও বাবার ইন্তেকালের পরে সোমবার, ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখ। [এ’লামুন্ নবুওয়া, ১৯২ পৃষ্ঠা]

৫. ইমাম হাফেয আবুল ফাতাহ আল-আন্দালুসী (৬৭১-৭৩৪ হিজরী): সোমবার, ১২ই রবিউল আউয়াল, হস্তীর বছর। [আইয়ুন আল-আসর, ১ম খণ্ড, ৩৩ পৃষ্ঠা]

৬. আল্লামা ইবনে খালদুন (৭৩২-৮০৮ হিজরী): ১২ই রবিউল আউয়াল, হস্তীর বছর; সম্রাট কাসরা নোশায়রওয়ান শাহের ৪০তম বছর। [ইবনে খালদুন কৃত ‘আত্ তারিখ’, ২য় খণ্ড, ৩৯৪ পৃষ্ঠা]

৭. মোহাম্মদ সাদিক ইবরাহীম আরজূন: বিভিন্ন ‘তুরাক’ (পরম্পরা)-এ সুপ্রতিষ্ঠিত যে মীলাদুন্নবী (দ:) সোমবার, ১২ই রবিউল আউয়াল, হস্তীর বছরে, কাসরা নোশায়ওয়ান শাহের শাসনামলে। [মোহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম, ১ম খণ্ড, ১০২ পৃষ্ঠা]

৮. শায়খ আবদুল হক্ক মোহাদ্দীসে দেহেলভী (৯৫০-১০৫২ হিজরী): “ভাল করে জেনে রাখো, ’সিয়ার’ ও ’তারিখ’ বিশেষজ্ঞদের (মানে জীবনীকার ও ইতিহাসবিদদের) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মত প্রকাশ করেন যে মহানবী (দ:) হস্তীর বছরে ধরণীতে আবির্ভূত হন.....এও ভালভাবে জ্ঞাত যে মাসটি ছিল রবিউল আউয়াল এবং দিনটি ১২ তারিখ। বিভিন্ন আলেম-উলেমা এই তারিখ সম্পর্কে ঐকমত্য পোষণ করেন।” [মাদারিজুন্ নবুয়্যত, ২য় খণ্ড, ১৪ পৃষ্ঠা]

৯. নবাব মোহাম্মদ সাদেক হাসান ভূপালভী: মীলাদুন্নবী (দ:) মক্কায় ফজরের সময় ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখ, হস্তীর বছরে হয়েছিল। অধিকাংশ উলেমা এই মত সমর্থন করেন। ইবনে জওযী উলেমাদের ঐকমত্যের বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। [আশ্ শোমামাতুল আম্বারিয়া ফী মওলিদে খায়র আল-বারিয়া, ৭ম পৃষ্ঠা]

অতএব, আপনারা দেখতে পেয়েছেন যে হিজরী প্রথম/দ্বিতীয় শতকের ইতিহাসবিদ ও জ্ঞানী-পণ্ডিতবৃন্দ এবং এর পাশাপাশি পরবর্তী যুগের জ্ঞান বিশারদগণও ১২ই রবিউল আউয়ালকে মীলাদ-দিবস হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ‘সালাফী’ নেতা নবাব সাদেক হাসান ভূপালীও।

ইসলামী বিশ্বে এই দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত

কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সমগ্র ইসলামী বিশ্বে মীলাদুন্নবী (দ:) দিনটি উদযাপিত হয়। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, ইরান ব্যতিরেকে (ওখানে ১৭ তারিখ পালিত হয়) সবগুলো মুসলমান দেশেই ১২ তারিখে তা পালিত হয়।

এখানে ১৬টি ইসলামী দেশের তালিকা দেয়া হলো, যেখানে ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে সরকারি ছুটি থাকে (এর প্রকৃত তালিকা আরও বড়):
জর্দান;
আরব আমীরাত;
বাহরাইন;
জাযিরাতুল আরব;
সুদান;
ইরাক;
কুয়েত;
মরক্কো;
ইয়েমেন;
তিউনিশিয়া;
সিরিয়া;
ওমান;
লেবানন;
লিবিয়া;
মিসর;
মৌরিতানিয়া।

উপসংহার

মীলাদুন্নবী (দ:)-এর সর্বজনগ্রাহ্য দিন ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখ, যে সম্পর্কে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী উলেমাবৃন্দ এবং ইতিহাসবিদগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন; আর ইসলামী দেশগুলোও সরকারিভাবে পালনীয় দিবস হিসেবে গ্রহণ করেছে।

এক্ষণে আমরা এমন এক আলেমের উদ্ধৃতি দেবো যাকে ‘সালাফী’রা তাফসীর ও তাওয়ারিখ বিষয়ে সেরা আলেম মনে করে। তিনি শুধু ১২ তারিখকে মূলধারার উলেমাদের অভিমত বলেই ক্ষান্ত হন নি, বরং এর স্বপক্ষে হাদীসও পেশ করেছেন:

ইবনে আবি শায়বা (রহ:) তাঁর ‘মোসান্নাফ’ গ্রন্থে আফফান থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি জাবের (রা:) থেকে, তিনি হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (দ:) হস্তীর বছরে ১২ই রবিউল আউয়াল, সোমবার, ধরাধামে শুভাগমন করেন। [ইবনে কাসীর কৃত ‘সীরাতুন্ নবী’, ১ম খণ্ড, ১৯৯ পৃষ্ঠা]

অতঃপর ইবনে কাসীর বলেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠ উলেমাদের মধ্যে এটি-ই সুপ্রসিদ্ধ মত।” [প্রাগুক্ত]

ইমাম কসতলানী (রহ:) বলেন: মহানবী (দ:) ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে ধরণীতে আবির্ভূত হন এবং মক্কাবাসী মুসলমানগণ তা পালন করেন; ওই একই দিন তাঁরা (তাঁর) বেলাদত-স্থান যেয়ারত করেন....এটি জ্ঞাত যে মহানবী (দ:)-এর মীলাদ-দিবস ১২ই রবিউল আউয়াল, দিনটি ছিল সোমবার। ইবনে এসহাক (রহ:) এবং অন্যান্যরাও এ কথা বর্ণনা করেছেন। [আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া, ১ম খণ্ড, ৮৮ পৃষ্ঠা]




*সমাপ্ত*

রেফারেন্স লিঙ্ক: