ব্লগ সংরক্ষাণাগার

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পিতা-মাতার সম্পত্তি, হেবা ও আজীবন ভোগাধিকার: এটি কী সুন্নাহ বিরোধী আইন?

 

১.♦ নতুন আইনে আসলে কী করা হয়েছে?
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাতীয় সংসদে Transfer of Property (Amendment) Bill, 2026 পাস হয়েছে। এতে Transfer of Property Act, 1882-তে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা যুক্ত করে “Gift with Reservation of Right of Usufruct”—অর্থাৎ জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান—নামে একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে।
এর মূল কাঠামো হলো— বাবা-মা সন্তান/নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন; সম্পত্তির মালিকানা গ্রহীতার কাছে যাবে; কিন্তু দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগের অধিকার নিজের কাছে রাখবেন; গ্রহীতা আগে মারা গেলেও দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার থাকবে; গ্রহীতার মালিকানা তার উত্তরাধিকারীদের কাছে যেতে পারে; এই নতুন পদ্ধতিকে সরকার সাধারণ দান বা মুসলিম আইনের হেবা থেকে পৃথক বলে ব্যাখ্যা করেছে। অর্থাৎ সংবাদপত্রে যেভাবে বলা হচ্ছে—“দান করার পরও বাবা-মায়ের অধিকার খর্ব হবে না”—তা মোটামুটি সঠিক; তবে আইনি ভাষায় বিষয়টি আরও নির্দিষ্ট: মালিকানা ও ভোগাধিকারকে আলাদা করা হয়েছে।
২. তাহলে এটি কি হেবার শরিয়াহ বিধানের বিরুদ্ধে?
এখানেই মূল প্রশ্ন।
শরিয়াহর দৃষ্টিতে “হেবা” কী?
জীবদ্দশায় কোনো ব্যক্তি নিজের মালিকানাধীন সম্পত্তি অন্যকে বিনামূল্যে দিয়ে দিলে সেটি সাধারণভাবে হেবা।
হেবার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:
ইজাব → কবুল → ক্ববজা (দখল/possession)
হেবা সম্পন্ন হওয়ার পর গ্রহীতা মালিক হয়ে যায়। হানাফি ফিকহের আলোচনায়ও ক্ববজা সম্পন্ন হলে মালিকানা গ্রহীতার কাছে চলে যায়।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শরিয়াহগত সমস্যা আছে: কেউ যদি সন্তানকে সম্পূর্ণ মালিক বানিয়ে হেবা করেন, আবার একই সঙ্গে বলেন—“তুমি মালিক হলেও আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই সম্পত্তির পূর্ণ ভোগাধিকার রাখব”—তাহলে এই শর্তটি সাধারণ হেবার প্রকৃত মালিকানা-পরিণতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ওলামাদের ভাষায়- হানাফি ফিকহের একটি সমসাময়িক ফতোয়া সরাসরি বলছে, ক্ববজা হয়ে যাওয়ার পর দাতা নিজের জন্য আজীবন ব্যবহারাধিকার শর্ত করলে সেই শর্তটি অবৈধ/অকার্যকর হতে পারে, যদিও হেবা নিজে বৈধ থাকতে পারে।
সুতরাং— “সাধারণ হেবা করে মালিকানা সন্তানকে দিয়ে আবার শরিয়াহসম্মতভাবেই নিজের পূর্ণ মালিকসুলভ ভোগাধিকার চিরস্থায়ী রাখা যাবে”—এ কথা বলা নিরাপদ নয়।
৩. কিন্তু নতুন আইনটি কি ঠিক সেই কাজই করছে?
এখানে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। সরকারের বক্তব্য হলো, এটি প্রচলিত মুসলিম হেবা বাতিল বা পরিবর্তন করছে না; বরং একটি নতুন statutory mode of transfer তৈরি করছে। আইনটি সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা বা অন্য স্বীকৃত হস্তান্তর পদ্ধতির ওপর প্রভাব ফেলবে না—এমনটাই সরকারি ব্যাখ্যা।
অর্থাৎ একজন মুসলিম চাইলে—
ক. শরিয়াহর প্রচলিত হেবা করতে পারেন, অথবা
খ. নতুন আইনের অধীনে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।
এই কারণে আইনটিকে “সুন্নাহবিরোধী আইন” বলে চূড়ান্ত ফতোয়া দেওয়া কিছুটা অতিরঞ্জিত।
বরং সঠিক প্রশ্ন হলো: একজন মুসলিম এই নতুন আইনের অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে সেই নির্দিষ্ট লেনদেনটি শরিয়াহর দৃষ্টিতে কী মর্যাদা পাবে?
এটির উত্তর নির্ভর করবে দলিলের প্রকৃতি, মালিকানা, ক্ববজা, শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির ওপর।
৪. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শরিয়াহগত আপত্তি কোথায়?
আপত্তি–১: হেবা ও নতুন আইনি “দান” এক জিনিস নয়।
আইনে এটিকে “Gift with Reservation of Right of Usufruct” বলা হলেও শরিয়াহর হেবা একটি নির্দিষ্ট ফিকহি কাঠামো। তাই শুধু আইন কোনো লেনদেনকে “দান” বললেই সেটি শরিয়াহর দৃষ্টিতে হেবা হয়ে যায় না।
এখানে ফিকহবিদদের পরীক্ষা করতে হবে: মালিকানা হস্তান্তর + ক্ববজা + ভোগাধিকার সংরক্ষণ—এই তিনটি একসঙ্গে শরিয়াহর কোন ভিত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
৫. আপত্তি–২:
ফারায়েজের সঙ্গে এটিকে গুলিয়ে ফেলা যাবে না:
এখানে সবচেয়ে বেশি ভুল হচ্ছে।
জীবদ্দশায় হেবা ≠ মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার। কুরআন উত্তরাধিকার বণ্টনের নির্দিষ্ট বিধান দিয়েছে। সূরা নিসা ৪:১১-এ সন্তান ও পিতা-মাতার উত্তরাধিকার অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এটিকে আল্লাহর নির্ধারিত বিধান বলা হয়।
কিন্তু একজন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় নিজের মালিকানাধীন সম্পত্তি হেবা করতে পারেন—এটি উত্তরাধিকার বণ্টন নয়। ফিকহের আলোচনাতেও জীবদ্দশার gift এবং মৃত্যুর পর inheritance আলাদা বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
তাই কেউ যদি বলে—
“এই আইন ফারায়েজ বাতিল করে দিয়েছে” —এটি সরাসরি সঠিক নয়, যতক্ষণ আইনটি মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার বণ্টনের বিধান পরিবর্তন করছে না।
তবে কেউ যদি এই আইন ব্যবহার করে মৃত্যুর পর কার কী ফরজ অংশ হবে তা পাশ কাটানোর উদ্দেশ্যে সম্পদ এমনভাবে সাজায়, তখন আলাদা শরিয়াহগত প্রশ্ন সৃষ্টি হবে।
৬. বরং সুন্নাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এখানে আছে:
হযরত রাসুলুল্লাহ ﷺ সন্তানদের মধ্যে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। হযরত নু‘মান ইবনে বশীর (রা.)-এর ঘটনায় তাঁর পিতা এক সন্তানকে বিশেষ উপহার দিলে রাসুলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞাসা করেন, অন্য সন্তানদেরও কি একইভাবে দিয়েছেন? না শুনে তিনি ন্যায়বিচার করতে নির্দেশ দেন।
অতএব বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি সন্তানদের দিতে পারেন—কিন্তু সন্তানদের মধ্যে অন্যায় পক্ষপাত সৃষ্টি করা শরিয়াহর দৃষ্টিতে গুরুতর বিষয়।
মিসরের দারুল ইফতাও জীবদ্দশায় সন্তানদের উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানদের মধ্যে ন্যায় ও সমতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
موقع دار الإفتاء المصرية
৭. তাহলে বাবা-মাকে সুরক্ষা দেওয়া কি শরিয়াহবিরোধী?
--না। বরং বাবা-মায়ের অধিকার রক্ষা করা ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
সমস্যা হলো সুরক্ষা দেওয়ার পদ্ধতি।
একজন বাবা-মা যদি আশঙ্কা করেন—
“আমি সব সম্পত্তি সন্তানকে দিয়ে দিলে সন্তান আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবে।” তাহলে এই ভয় বাস্তব।
রাষ্ট্র যদি এমন একটি ব্যবস্থা করে যার মাধ্যমে বাবা-মা সম্পত্তি হস্তান্তর করেও আইনগতভাবে জীবদ্দশার বাসস্থান/ভোগাধিকার রক্ষা করতে পারেন, সেটির সামাজিক উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।
কারণ সন্তান কর্তৃক বাবা-মাকে পরিত্যাগ করা বা নির্যাতন করা ইসলামসম্মত নয়। এমনকি হাদিসে পিতা ও সন্তানের সম্পদের সম্পর্কের ব্যাপারে অত্যন্ত শক্তিশালী বক্তব্য এসেছে—যদিও এর ব্যাখ্যা ফিকহবিদদের কাছে সীমাহীন মালিকানা হিসেবে নেওয়া হয় না।
৮. আইনের ভালো দিকগুলো-
আমার বিশ্লেষণে অন্তত ৫টি ইতিবাচক দিক আছে:
১. বৃদ্ধ বাবা-মায়ের নিরাপত্তা:
সম্পত্তি সন্তানকে দেওয়ার পর বাবা-মা যাতে অসহায় না হন, সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা।
২. প্রতারণা প্রতিরোধ:
“দলিল করে নিন, পরে দেখবেন”—জাতীয় পারিবারিক প্রতারণা কমাতে পারে।
৩. মালিকানা ও ব্যবহার পৃথক করা:
আইনটি একটি বাস্তব সমস্যার সমাধান করেছে—মালিকানা এক ব্যক্তির, কিন্তু জীবদ্দশায় ব্যবহার অন্য ব্যক্তির।
৪. গ্রহীতা আগে মারা গেলেও দাতার সুরক্ষা:
আইনটির বিশেষ শক্তিশালী দিক হলো—সন্তান আগে মারা গেলেও বাবা-মায়ের সংরক্ষিত ভোগাধিকার শেষ হয় না।
৫. শুধু মুসলিম নয়:
ব্যবস্থাটি ধর্মনিরপেক্ষভাবে সব ধর্মের নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য।
তাই বাংলাদেশে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৪’ (বা ২০২৬) কেবল একটি আইনি সংশোধন নয়, বরং এটি আমাদের ক্ষয়িষ্ণু সামাজিক মূল্যবোধের বিপরীতে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা।
এই আইনের যৌক্তিকতাকে আমরা শরিয়াহ, ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করতে পারি:
♦ ১০০ বছরের ব্যবধান: আদর্শিক ক্ষয় ও বাস্তব সংকট:
আজকের মুসলিম সমাজ আর ১০০ বছর আগের সমাজের মধ্যে আসমান-জমিন পার্থক্য। ৫০ বছর আগেও বাংলাদেশে ‘বৃদ্ধাশ্রম’ শব্দটি ছিল অকল্পনীয়। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও ইসলামী মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে আজ ‘কুলাঙ্গার’ সন্তানরা সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর নিজের জন্মদাতা বাবা-মাকে ঘর থেকে বের করে দিতেও কুণ্ঠিত হয় না।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর যুগে বা এমনকি বিগত কয়েক দশেক পূর্বেও পিতা-মাতার হক এভাবে ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়নি। তাই তৎকালীন ফতোয়া ও বর্তমান পরিস্থিতির ফতোয়ার মধ্যে সময়ের দাবি অনুযায়ী পার্থক্য হওয়া আবশ্যক।
২. আর্থিক ও দৈহিক সেবা: কুরআনের আদেশের পূর্ণাঙ্গ রূপ- আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন— “পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করো।” (সূরা বনী ইসরাইল: ২৩)।
-> তাফসীরের আলোকে: হাকিমুল উম্মত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন নঈমী (রহ.) তাঁর ‘নূরুল ইরফান’ তাফসীরে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে— পিতা-মাতার দৈহিক সেবার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক সেবা করাও বাধ্যতামূলক।
-> আইনের লক্ষ্য: যখন সন্তানরা স্বেচ্ছায় এই আর্থিক বা আবাসন সেবা দিতে অস্বীকার করছে, তখন রাষ্ট্র ‘ইজতিহাদি’ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই হক আদায়ে বাধ্য করছে।
♦. ফতোয়ার গতিশীলতা ও শাইখ ইবরাহীম মারদিনীর দর্শন-
ইসলামে গোঁড়ামির স্থান নেই। লেবাননের প্রখ্যাত আলিম শাইখ ইবরাহীম রমাদান মারদিনী যেমনটি বলেছেন:
“ফকীহকে সময়ের সাথে এগোতে হবে এবং সময়কে বুঝতে হবে। ফতোয়ার কোনো মূল্য নেই যদি তার
ক্রমোন্নয়ন বা বিবর্তন না হয়। এটা স্থবির হওয়া চলবে না।”
এই দর্শনের ভিত্তিতে বলা যায়, নতুন আইনের এই সংস্কার কোনো মূলনীতি পরিবর্তন নয়, বরং মূলনীতিকে (পিতা-মাতার সুরক্ষা) পরিবর্তিত সময়ের ওপর নতুনভাবে প্রয়োগ করা। যদি খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে পিতা-মাতার হক এভাবে ভুলুণ্ঠিত হতো, তবে তাঁরা নিঃসন্দেহে আরও কঠোর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নিতেন।
♦. কন্যাসন্তানের উত্তরাধিকার ও আজীবন ভোগাধিকার-
আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় অনেক বাবা-মা কন্যাসন্তানকে সম্পত্তি হেবা করে দিতে চান, যাতে তাঁদের অবর্তমানে মেয়েটি অসহায় না হয়।
-> সঠিক সিদ্ধান্ত: কন্যাসন্তানকে হেবা করে দেওয়া একটি উত্তম সিদ্ধান্ত। তবে এটি বর্তমান আইনের অধীনে হওয়া আরও নিরাপদ। এর ফলে মালিকানা কন্যার কাছে গেলেও বাবা-মা নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন যে, তাঁদের আমৃত্যু সেখানে থাকার অধিকার আইনত সুরক্ষিত। অর্থাৎ, কন্যা সন্তান সম্পত্তির পূর্ণ দখল ও ভোগ বাবা-মায়ের ইন্তেকালের পরেই পাবে।
শেষ কথা: ইসলাম স্থবির নয়-
শরিয়াহর বিধানগুলো মূলত ইনসাফ কায়েম করার জন্য। যখন সন্তানরা ইনসাফ ভুলে গিয়ে সম্পত্তি কুক্ষিগত করে বাবা-মাকে পথে বসায়, তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সেই জুলুমের পথ বন্ধ করা।
সংশোধিত এই আইনটি মূলত কুরআনের ‘ইহসান’ (সদ্ব্যবহার) এবং রাসূলুল্লাহ (দরুদ)-এর সুন্নাহর সেই চেতনাকেই ধারণ করে, যেখানে অসহায় প্রবীণদের সম্মান ও অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং এই পরিবর্তনকে সময়ের প্রয়োজনে একটি বাস্তবসম্মত এবং প্রশংসনীয় গবেষণালব্ধ পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করাই হবে পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান।
অতএব, নতুন আইনটিকে এক কথায় “সুন্নাহবিরোধী” বলে প্রত্যাখ্যান করা যেমন যথাযথ নয়, তেমনি “আইনে বৈধ হলেই শরিয়াহসম্মত”—এমন ধারণাও গ্রহণযোগ্য নয়। আইনটি মূলত সম্পত্তির মালিকানা ও আজীবন ভোগাধিকারকে পৃথক করে পিতা-মাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি দেওয়ানি ব্যবস্থা। এর সামাজিক উদ্দেশ্য ইতিবাচক হতে পারে; কিন্তু কোনো মুসলিম এই ব্যবস্থার অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে সেই নির্দিষ্ট দলিলের শর্ত, ক্ববজা, মালিকানা, সন্তানদের প্রতি ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার-প্রভাব—সবকিছু পৃথকভাবে শরিয়াহর আলোকে যাচাই করতে হবে।
সুতরাং বিষয়টি “সুন্নাহ বনাম আইন”—এমন দ্বৈততার নয়; বরং আইন, ফিকহ, পারিবারিক অধিকার ও সামাজিক বাস্তবতার সমন্বিত বিচার প্রয়োজন।
★ঋণ স্বীকার: লেখক, গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবিদ জনাব কাজী সাইফুদ্দিন হোসাইন ( Kazi Saifuddin Hossain) সহ বরেণ্য ওলামায়ে কেরামের কলাম।
অ্যাডভোকেট ও লিগ্যাল কনসালটেন্ট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চট্টগ্রাম।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন