-এডমিন
*প্রশ্ন*
জনৈক ফেসবুকার আমার ’মওলা আলী (ক.)-এর বেলায়াতের অভিষেক গাদীরে খুমে হয়নি, হয়েছে কুর’আনের মক্কী সূরায়’ শীর্ষক পোষ্টের মন্তব্য ফোরামে এসে প্রশ্ন করেছেন: “এটার (মানে আমার প্রদর্শিত ওই ১০/৬২ আয়াতটির) দ্বারা কি আলী (রা.)-এর খিলাফত প্রমাণিত হয়? রাসুলুল্লাহ (স.) হযরত আলী (রা)-কে খেলাফত দিয়ে গেছিলেন- إِنَّ عَلِيًّا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ وَهُوَ وَلِيُّ كُلِّ مُؤْمِنٍ بَعْدِي - রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন: আলী আমার হতে এবং আমি আলী হতে। আমার পরে সে-ই হবে সমস্ত মুমিনের অভিভাবক। [সুনানে তিরমিজি/হাদীস-৩৭১২]”
*আমার জবাব*
এর সমুচিত জবাব নিচের সাইটে বিদ্যমান, যা অনুবাদ করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে। তবে সংক্ষেপে বলবো, হাদীসের - بعدي - তথা ”আমার পরে” সংযোজিত অংশটুকু শিয়াদের; এর মানে এটা মূল বর্ণনায় নেই। হাদীসশাস্ত্র সম্পর্কে শিয়াপন্থীদের আরো জানা জরুরি। সাইট লিঙ্ক: https://www.twelvershia.net/.../response-to-alee-a-s-the.../
কুর’আন মজীদ ৫/৫৫ ঘোষণা করে - إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُ وَٱلَّذِينَ آمَنُواْ ٱلَّذِينَ يُقِيمُونَ ٱلصَّلاَةَ وَيُؤْتُونَ ٱلزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ - নিশ্চয় তোমাদের ওলী/বন্ধু (وَلِيُّكُمُ) তো আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ও ঈমানদারবৃন্দ -যারা নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহরই সামনে বিনত হয় (আয়াতে করীমা)। এই আয়াতে ’বন্ধু’ শব্দটি সম্পর্কে টীকা লিখতে গিয়ে হাকিমুল উম্মত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: “এখানে ওলী তথা ‘বন্ধু’ মানে ‘খলীফা’ হতে পারে না; আর না এ আয়াত হযরত আলী মুরতাদা (রা.)-এর খিলাফতের জন্যে খাস্ হতে পারে। এর কয়েকটা কারণের মধ্যে একটা হচ্ছে - আল্লাহ ও রাসূল (দ.) কারো খলীফা নন। অথচ এখানে আল্লাহ ও রাসূলকে ‘ওলী’ (ولى) বলা হয়েছে। একটা শব্দ একই সময়ে কয়েক অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে। দ্বিতীয়তঃ এ আয়াত অবতীর্ণ হবার সময় হযরত আলী (ক.) খলীফা ছিলেন না। যদি আয়াতে হুজূরের (দ.) পরবর্তী জমানাও বোঝানো হয়, তবে মাঝখানে বিরতি ছাড়া সরাসরি (بلا فصل) খিলাফত প্রমাণিত হয় না। প্রথম তিন খলীফার পরও তো ‘পরবর্তী জমানা।’ তৃতীয়তঃ - إِنَّمَا - শব্দটি হাসর্ (حصر)-এর জন্যে (অর্থাৎ নির্ধারিত বস্তুর নিশ্চয়তা বোঝানোর জন্যে) ব্যবহৃত। যদি ‘খিলাফত’ হযরত আলী (ক.)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, তবে (শিয়াদের বারো ইমামের) বাকি এগারোজন ইমামের খিলাফতও তো বাতিল হয়ে যায়! মোট কথা, এখানে ‘ওলী’ (ولى) মানে হয়তো ’বন্ধু;’ নতুবা ‘সাহায্যকারী।’ [তাফসীরে নূরুল ইরফান, টীকা- ১৭৪]
ইবনু সা’আদ বর্ণনা করেন ইমাম হাসান ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবী তালিব (রহ.) ও এক রাফেযীর মধ্যকার কথপোকথন:
فقال له الرافضي ألم يقل رسول الله عليه السلام لعلي من كنت مولاه فعلي مولاه؟ فقال أما والله أن لو يعني بذلك الامرة والسلطان لأفصح لهم بذلك كما أفصح لهم بالصلاة والزكاة وصيام رمضان وحج البيت ولقال لهم أيها الناس هذا وليكم من بعدي.
অর্থ: রাফেযী বল্লো, ‘রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কি আলী (আঃ)-কে বলেননি: “আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা?” তিনি (মানে হাসান ইবনে হাসান) বললেন: “আল্লাহর কসম, যদি তিনি (দ.) এর দ্বারা নেতৃত্ব বোঝাতেন, তাহলে অবশ্যই তা স্পষ্ট করতেন, যেমন তিনি সালাত, যাকাত, রমজানের রোজা এবং কা’বা ঘরের হজ্জের বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন। বরং তিনি বলতেন: ‘হে মানুষ, আমার পরে এই ব্যক্তিই তোমাদের ওলী (অভিভাবক)’।” [সূত্র: তাবাক্বাতে ইবনে সা’আদ, ৭ম খণ্ড, ৩১৪ পৃষ্ঠা]
অতএব, এই সম্মানিত আহলে বাইত-সদস্য কর্তৃক শিয়াদের ভ্রান্ত দাবির মূলোৎপাটনেই বোধগম্য হয় যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপরোক্ত কথা দ্বারা খেলাফতকে উদ্দেশ্য করেন নি। খেলাফত সুন্নী মুসলমানবৃন্দের চার খলীফা (রা.)-এরই ক্রমধারায় সম্পন্ন হয়েছে।
*সমাপ্ত*
