ব্লগ সংরক্ষাণাগার

রবিবার, ১৩ মে, ২০১৮

মাইকে আযান দেয়া কি বেদআত?

[Bengali translation of online Islam Question and Answer's fatwa: "Is using loudspeakers for the Adhaan an innovation?"]

মূল: ইসলামী প্রশ্ন ও উত্তর
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন

প্রশ্ন: আযা’নে লাউড-স্পীকার বা মাইক ব্যবহার করা কি বেদআত (ধর্মে নতুন প্রচলন)? (কেননা) বেদআত সংজ্ঞাটি সম্পর্কে আমার উপলব্ধি হলো সেগুলো ধর্মে নতুন প্রচলিত প্রথা। এমতাবস্থায় আযা’ন দেয়ার জন্যে ব্যবহৃত লাউড-স্পীকার বা মাইককে আপনি কোন্ শ্রেণিভুক্ত করবেন?

উত্তর: আল্লাহরই প্রতি সমস্ত প্রশংসা। বেদআত সম্পর্কে জানতে আমাদের ৭২৭৭ ও ১০৮৪৩ নং ফতোয়াগুলো দেখুন। 

লাউড-স্পীকারে আযা’ন দেয়া প্রসঙ্গে বলতে হয়, এতে কোনো সমস্যা নেই। কেননা আযা’নকে শ্রোতাদের কাছে প্রচারের ক্ষেত্রে এটা একটা মাধ্যম, আর মাধ্যম তার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যেরই অনুরূপ শরঈ ফায়সালার অধীন। মুয়াযযিনের জন্যে আপন কণ্ঠস্বরকে উঁচু করাটা শর্ত, যাতে মানুষ তাঁর আযা’ন শুনতে পান। তাই এ লক্ষ্যের জন্যে যা কিছু মাধ্যম হয়, সবই প্রয়োজনীয় বলে সাব্যস্ত। 

শায়খ ইবনে সা’দী বলেন, “আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার ও তার রক্ষণাবেক্ষণ নিচের আয়াতটিতে ব্যক্ত হয়েছে:

 وَأَعِدُّواْ لَهُمْ مَّا ٱسْتَطَعْتُمْ مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ ٱلْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ

অর্থ: আর তাদের (মোকাবেলার) জন্যে প্রস্তুত রাখো যে শক্তি তোমাদের সাধ্যে রয়েছে। [সূরা আনফাল, ৮:৬০; তাফসীরে নূরুল এরফান বাংলা সংস্করণ]

অধিকন্তু, মারণাস্ত্রের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার মাধ্যম ব্যবহার করতে বলা হয়েছে নিচের আয়াতে করীমায়:
  

 

يَٰأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءامَنُواْ خُذُواْ حِذْرَكُمْ فَٱنفِرُواْ ثُبَاتٍ أَوِ ٱنْفِرُواْ جَمِيعاً


অর্থ: (শত্রুর বিরুদ্ধে) সতর্কতা অবলম্বন করো। [সূরা নিসা, ৪:৭১]

উপরন্তু, সমুদ্র ও আকাশে ভ্রমণ করার সামর্থ্য বা সক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে নিচের আয়াতে:

 فِيهِ ءَايَٰتٌ بَيِّنَـٰتٌ مَّقَامُ إِبْرَٰهِيمَ وَمَن دَخَلَهُ كَانَ آمِناً وَللَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلْبَيْتِ مَنِ ٱسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيل

অর্থ: এবং আল্লাহর জন্যে মানবকুলের ওপর ওই ঘরের হজ্জ্ব করা (ফরয), যে সেটা পর্যন্ত যেতে পারে। [সূরা আলে ইমরান, ৩:৯৭]

এগুলোর সব এবং অন্যান্য বিষয় শক্তি প্রয়োগ ও জ্বেহাদের সর্বপ্রকার মাধ্যম ব্যবহারের প্রতি খোদায়ী/ঐশী আজ্ঞার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

অনুরূপভাবে, কণ্ঠস্বর ও উপকারী মতামত/পরামর্শ টেলিগ্রাফ, টেলিফোন (মোবাইল) ইত্যাদির মাধ্যমে দূরদূরান্তে পৌঁছে দেয়াও মানবজাতির কাছে সত্য প্রকাশের জন্যে আল্লাহতা’লা ও তাঁর রাসূল (দ:)-এর আদেশেরই আওতাভুক্ত। বিভিন্ন ধরনের মাধ্যম দ্বারা সত্য ও উপকারী বাণী প্রচারের সক্ষমতা আল্লাহতা’লারই একটি রহমত/আশীর্বাদ; আর ধর্মীয় ও পার্থিব ‍উভয় স্বার্থ সংরক্ষণ করে এমন মাধ্যম উদ্ভাবন ও তার প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সাধন আল্লাহরই খাতিরে এক ধরনের জ্বেহাদ বটে।” [মসজিদে মাইক স্থাপনের পরে কিছু লোক এর সমালোচনা করার পর শায়খ ইবনে সা’দীর প্রদত্ত খুতবা: মজমূ’আহ মু’আল্লাফাত ইবনে সা’দী; ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৫১ পৃষ্ঠা]

অনুরূপভাবে, উপকারী জ্ঞানের প্রচার ও মানুষকে ইসলামের প্রতি আহ্বানের জন্যে ইন্টারনেটের ব্যবহার হলো শরীয়তের মহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের উপকারী মাধ্যমগুলোর অন্যতম। 

আমরা আল্লাহকে মান্য করার ক্ষেত্রে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি। তিনি মহানবী (দ:)-এর প্রতি আপন আশীর্বাদ বর্ষণ করুন, আমীন।  

                                  *সমাপ্ত*

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন